
বুধবার জীবনকৃষ্ণ সাহাকে আলিপুর সিবিআই বিশেষ আদালতে নিয়ে আসা হয়
শেষ আপডেট: 15 May 2024 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক বছর জেলে থাকার পর জামিন পেয়েছেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। মঙ্গলবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
বুধবার জামিনের বেশ কিছু প্রক্রিয়ার জন্য জীবনকৃষ্ণ সাহাকে আলিপুর সিবিআই বিশেষ আদালতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই বেশ হাসিমুখে তিনি বলেন, “সত্যের জয় হয়েছে।”
এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে লোকসভা ভোট থেকে সন্দেশখালিকাণ্ড, তাঁর সিবিআই-কে দেখে পুকুরে মোবাইল ছুড়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকরা জীবনকৃষ্ণকে প্রশ্ন করেন। তখনই ভোট প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “তৃণমূল ৪২টা আসনে জিতবে। আর কেন্দ্রে আমাদের সরকার জিতবে।” একইসঙ্গে সন্দেশখালি নিয়ে তাঁর মত, “আমার মতো সত্যের জয় হবে। সবই ক্রমশ প্রকাশ্য।” যদিও তাঁর পুকুরে মেবাইল ছুড়ে ফেলা নিয়ে যে শোরগোল হয়েছিল তা নিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জীবনকৃষ্ণ।
যে যে শর্তে জীবনকৃষ্ণের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে তা হল অভিযুক্তকে দুই কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা বন্ড দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না বিধায়ক। জমিন পাওয়ার পর তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। প্রত্যেক শুনানিতে জীবনকৃষ্ণকে উপস্থিত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে কোনও হুমকি দেওয়া যাবে না। কোনও রকম প্রমাণ লোপাট করতে পারবেন না তৃণমূল বিধায়ক। এছাড়াও তাঁর পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গত বছর ১৭ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি অভিযানের মাঝেই নিজের দামি দুটি অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল সেট পুকুরে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। তথ্য লোপাটের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজত ঘুরে তখন থেকেই জেলবন্দি ছিলেন বিধায়ক।
জীবনকৃষ্ণের ফোন থেকে নিয়োগ মামলার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে সিবিআই। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা পড়েছে আদালতে। চার্জশিট জমা পড়ার পরও কেন জেলবন্দি করে রাখা হবে, এই প্রশ্ন তুলে গত বছর পুজোর আগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল বিধায়ক। অবশেষে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে জীবনকৃষ্ণ সাহা জামিন পেয়েছেন।