
শেষ আপডেট: 19 December 2022 05:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতার আন্দোলনে আদিবাসীদের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। বহু যুদ্ধে বিদেশি শক্তিকে পরাভূত করেছে তারা। আদিবাসীদের সম্মানে তাই ভারতীয় সেনায় ট্রাইবাল রেজিমেন্ট (Tribal Regiment in Indian army) গঠন করা হোক।
শনিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত পূর্বাঞ্চলীয় পর্ষদের বৈঠকে এই দাবি পেশ করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী (Jharkhand CM) হেমন্ত সরেন (Hemant Soren)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পর্ষদের চেয়ারম্যান অমিত শাহের উদ্দেশে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় পর্ষদের তরফে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হোক।
গত লোকসভা নির্বাচনে ভোটের স্বার্থে ভারতীয় সেনার বীরত্বকে নিজের সাফল্য বলে চালানোর অভিযোগ উঠেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। বিরোধীরা এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নালিশ জানায়। যদিও কমিশন প্রধানমন্ত্রীকে ক্লিনচিট দেয়। তবে পরে জানা যায়, তিন সদস্যের কমিশনের একজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন।
লোকসভার গত নির্বাচনে সেনা কেন্দ্রিক নানা প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গিয়েছিল অনেক দলের মুখেই। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব নির্বাচনী ইস্তাহারে ঘোষণা করেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে সেনার আহির রেজিমেন্ট গঠন করবেন। উত্তরপ্রদেশে যাদবদের বলা হয় আহির। সমাজবাদী পার্টির প্রধান ভোটব্যাঙ্কও যাদবরা।
ওই ভোটেই ভীম পার্টির সভাপতি চন্দ্রশেখর আজাদ চামার রেজিমেন্ট গঠনের দাবি জানান। এই দাবি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। বছর কয়েক আগে জাতীয় জনজাতি কমিশন প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে সেনায় চামার রেজিমেন্ট গঠনের প্রস্তাব পেশ করে। তাদের যুক্তি ছিল চামার সম্প্রদায়ের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটা জরুরি।
সেনাবাহিনীতে জাতি, সম্প্রদায় এবং অঞ্চলের নামে বেশ কয়েকটি রেজিমেন্ট এবং ইউনিট রয়েছে —যেমন জাট, শিখ, রাজপুত, ডোগরা, মহার, জেএকে রাইফেলস, গোর্খা, শিখ ইনফ্যান্ট্রি ইত্যাদি। তবে বর্ণ বা অঞ্চল-ভিত্তিক রেজিমেন্টগুলি সমগ্র সেনাবাহিনীর জন্য নয় বরং কিছু বিশেষ ইউনিটের অংশ। জাতি ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে আহির ও চামারের মতো রেজিমেন্ট বা এমন আরও অনেক ইউনিট তাই কেন হবে না, এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি এই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজস্থানের বিজেপি সাংসদ ক্ষিরোদীলাল মিনা ২০১৯-এ রাজ্যসভায় দ্য ট্রাইবাল (আদিবাসী) রেজিমেন্ট বিল শীর্ষক প্রাইভেট মেম্বার বিল পেশ করেন। সেই বিলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পূর্ব যুগে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর নামে রেজিমেন্ট গঠন করা হয়েছিল ঐতিহাসিক এবং প্রতীকী কারণের ভিত্তি।
তাঁর আরও বক্তব্য, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও অনেক রেজিমেন্ট বিভিন্ন সংস্কৃতির সামরিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদা অনুযায়ী গঠন করা হয়েছিল। লাদাখ স্কাউটস, নাগা রেজিমেন্ট, অরুণাচল স্কাউটস এবং সিকিম স্কাউটস গঠিত হয় যথাক্রমে ১৯৬৩, ১৯৭০, ২০১০ এবং ২০১৩ সালে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী আদিবাসীরা হল জনসংখ্যার ৮.৬ শতাংশ বা ১০ কোটি। রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এছাড়া, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, এবং কিছু উত্তর-পূর্বের রাজ্য এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ তাদের বাস। আদিবাসী রেজিমেন্ট শুধু দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে না, সেনাতে উপজাতী জনগোষ্ঠীর মহান ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটবে।
নবান্নের বৈঠকে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর আদিবাসী রেজিমেন্ট গঠনের দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ কোনও মন্তব্য করেননি। বৈঠকে হেমন্ত সরেন সেনায় রেজিমেন্টে চালুর দাবি পেশ করার পাশাপাশি জানান, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের জমির মালিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন বিধি চালু করা হয়েছে। রাজ্যে আদিবাদী পরিবারগুলিকে স্বাধীনতার আগের দাগ নম্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জমির দলিল দেওয়া হচ্ছে।
তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি বিহারে, আরজেডি’কে উস্কানি প্রশান্ত কিশোরের