শেষ আপডেট: 31 August 2022 06:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত (Tribal) পরিচারিকাকে (Maid) দিনের-পর-দিন গরম তাওয়া লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে প্রস্রাব চাটতেও (Lick urine) বাধ্য করা হয়েছে। এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেত্রীর (BJP leader) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বুধবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ|
ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhnd)। অভিযুক্ত মহিলার নাম সীমা পাত্র। তিনি ঝাড়খণ্ডে বিজেপির মহিলা মোর্চার জাতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য। কেন্দ্রের গেরুয়া সরকারের 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও' অন্যতম আহ্বায়ক সীমা। তাঁর স্বামী মহেশ্বর বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক।
জানা গেছে, সীমা পাত্রের বাড়িতে গত ১০ বছর ধরে কাজ করতেন সুনীতা নামের ওই পরিচারিকা। তিনিও ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। 'দলিত ভয়েজ' নামক একটি টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। সেই ভিডিওতে একজন সুনীতাকে মেঝেতে পড়ে কাতরাতে দেখা যাচ্ছে। টুইটার হ্যান্ডলটির তরফে দাবি করা হয়েছে, গত ৮ বছর ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে ওই আদিবাসী মহিলার উপর। তাঁকে ওই বাড়িতে বন্দি করে রেখে গরম রড দিয়ে মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাওয়া দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মেঝেতে পড়ে থাকা প্রস্রাব চাটতেও তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে মহিলার শরীরে একাধিক ক্ষত, এবং তার দাঁত ভাঙা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রী সীমার ফাঁসির দাবি তুলেছে দলিত ভয়েজ।
https://twitter.com/ambedkariteIND/status/1564551679940653056?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1564551679940653056%7Ctwgr%5Eed1a664a64fb5c2428a71f4b88ba9f0fcf7e96dd%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.anandabazar.com%2Findia%2Fjharkhand-bjp-leader-seema-patra-makes-domestic-help-lick-urine-dgtl%2Fcid%2F1366561
সুনীতা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নেত্রীর ছেলে আয়ুষ্মানই তাঁকে ওই নরক থেকে বাঁচিয়েছে। মায়ের হাতে নিরন্তর সুনীতাকে নির্যাতিত হতে দেখে পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে নিজের বন্ধু বিবেক আনন্দ বাস্কেকে পাঠান আয়ুষ্মান। বিবেক পেশায় একজন সরকারি আধিকারিক। ভিডিওটি নিয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সীমা পাত্র। তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। সূত্রের খবর, তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ছেলে আয়ুষ্মানকে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তাঁর দাবি, ছেলে অসুস্থ।
এই ঘটনা সামনে আসতেই মহিলা কমিশন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার অনুরোধ করা হয়েছিল ঝাড়খন্ড পুলিশকে। ইতিমধ্যেই দল থেকে সীমাকে সাসপেন্ড করেছে বিজেপি। এবার তাঁকে গ্রেফতার করা হল।
প্রতিবেশীর গোয়ালে ঢুকে গরুকে ধর্ষণের অভিযোগ! নামখানায় গ্রেফতার যুবক