
পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে পথ অবরোধে গ্রামবাসীরা।
শেষ আপডেট: 30 June 2024 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে গর্জে উঠল জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র ঝাড়গ্রাম।
স্রেফ সন্দেশের বশে এক নাবালককে ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া ফাঁড়ির পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার চার ঘণ্টা পথ অবরোধও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজের নেতৃত্বও।
পরে পুলিশ তদন্তের আশ্বাস দিলেও ক্ষোভে ফুটছেন কুড়মি সমাজের নেতৃত্ব এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তাঁদের প্রশ্ন, "গুজবের বশে চারিদিকে ছেলেধরা সন্দেহে মানুষকে গনপিটুনির খবর শুনতে পাচ্ছি। মানুষকে হাতে আইন তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশের কর্তারা। সেই পুলিশই কীভাবে শুধুমাত্র সন্দেহের বশে নাবালককে ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার করতে পারে?"
পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টিকে হাল্কাভাবে নেওয়া হচ্ছে না। গ্রামবাসীদের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে ফাঁড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর শালবনিতে জিন্দলদের ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস সেরে মেদিনীপুরে ফেরার পথে ভাদুতলার কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-সহ দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশির নামে জঙ্গলমহলে আদিবাসী মহিলাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল। তারপরই জঙ্গলমহলে গড়ে ওঠে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি। পরে কমিটির দখল নিয়েছিল মাওবাদীরা। রাস্তা কেটে, গাছ ফেলে মাসের পর মাস অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয় জঙ্গলমহল।
পুলিশের এক কর্তা বলেন, "জঙ্গলমহলের শান্তি অক্ষুন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় গ্রামবাসীরা মিথ্যে কথা বলছেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
গত মঙ্গলবার স্থানীয় রাশুয়া গ্রামে একটি বাইক চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে নাবালককে থানায় ডেকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বাড়ি ফিরে রক্তবমি করতে শুরু করে সে। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নাবালক। আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজের নেতৃত্ব এবং গ্রামবাসীরা মানিকপাড়া ফাঁড়ির আইসিকে অপসারণ এবং তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে হয়েছেন।