
শেষ আপডেট: 3 December 2020 18:30
নাসার পরবর্তী চন্দ্রাভিযান নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। চাঁদের কক্ষপথে প্রথম ‘লুনার স্পেস স্টেশন’ বানাচ্ছে নাসা। এই প্রকল্পের নাম ‘গেটওয়ে টু মুন’। আগামী বছরই চন্দ্রাভিযানের প্রথম ধাপ পেরবে নাসা। স্পেস লঞ্চ সিস্টেম ও ওর্যায়নকে পরীক্ষামূলকভাবে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানো হবে। চাঁদের কক্ষে ঘুরে মানুষ নামানোর জন্য সঠিক জায়গা ও যাবতীয় লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম পরীক্ষা করবে ওর্যায়ন। ২০২৩ সালে আর্টেমিস-২ মিশনে মহাকাশযানে নেমে চাঁদে যাবেন একজন নভশ্চর। তবে তিনি চাঁদের মাটিতে নামবেন না। হালহকিকত দেখে আসবেন। ২০২৪ সালের মিশনই হবে ঐতিহাসিক। দুজন মহাকাশচারীকে চাঁদে পাঠাতে পারে নাসা। একজন মহিলা ও অন্যজন পুরুষ নভশ্চর।
পরবর্তী ও সবচেয়ে শেষ আর্টেমিস-৪ মিশনে চাঁদের কক্ষপথে পাকাপাকি থাকার জায়গা বা লুনার স্পেস স্টেশন তৈরি করবে নাসা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) রয়েছে পৃথিবী থেকে বড়জোর ৩৭০ কিলোমিটার উপরে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), জাপানের জাক্সা (JAXA), ইউরোপের ইসএ (ESA) এবং কানাডার সিএসএ (CSA)—এই পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সম্মিলিত চেষ্টায় ১৯৯৮-২০১১ সালের মধ্যে গড়ে উঠেছিল আইএসএস। আর লুনার স্পেস স্টেশন তৈরি হচ্ছে পৃথিবী থেকে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার কিলোমিটার দূরে। নাসা জানিয়েছে, স্পেস স্টেশন বানানোর প্রাথমিক কাজ শেষ হবে ২০২২-২৩ সালের মধ্যে। দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ নভশ্চরদের নিয়ে পাকাপাকি ভাবে বাসযোগ্য আস্তানা গড়ে তোলার কাজ শেষ হবে ২০২৮ সালের মধ্যেই। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের মতো অত বড় না হলেও লুনার স্পেস স্টেশনে দুই থেকে তিনজন নভশ্চরের ভালোভাবে থাকা ও গবেষণার জায়গা তৈরি হচ্ছে। হলো অরবিটে (NRHO) বসানো হবে এই স্পেস স্টেশন। যার দূরত্ব চাঁদের উত্তর মেরু থেকে ৩০০০ কিলোমিটার এবং আঁধার দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ৭০,০০০ কিলোমিটার।