
শেষ আপডেট: 14 November 2023 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জয়নগরের তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করকে খুনের ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেছে। গোটা এলাকা থমথমে। পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতকে জেরা করে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের সন্দেহ, ভাড়া করা শ্যুটার দিয়েই সইফুদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। তার জন্য শ্যুটারকে লক্ষাধিক টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যাপারে এখনই কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে তৃণমূল নেতা খুনের পিছনে রয়েছে গভীর পরিকল্পনা!
পুলিশ সূত্রের খবর, সইফুদ্দিনকে বেশ কয়েকদিন ধরেই নজরে রেখেছিল অভিযুক্তরা। তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করে তারপরই খুনের পরিকল্পনা করা হয়। গত কয়েকদিনে সইফুদ্দিন ভোরে কখন নমাজ পড়তে যেতেন, কখন ফিরতেন, তাঁর সঙ্গে কে কে থাকতেন সবই নজরে রেখেছিল আততায়ীরা।
সোমবার সকালে সুযোগ বুঝেই সইফুদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। সোমবার নমাজ পড়তে যাওয়ার পথে তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুন করা হয়। আততায়ীদের দলে পাঁচজন ছিল। ওই দলে থাকা সাহাবুদ্দিন নামে একজনকে জনতা ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে বলে অভিযোগ। এর পরেই জতুগৃহ হয়ে ওঠে জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রাম। একের প এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এখনও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
সইফুদ্দিন খুনের ঘটনায় এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কোন আক্রোশ থেকে তৃণমূল নেতাকে খুন করা হয়? কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল? আততায়ীদের দলে আর কারা কারা ছিল? এই ঘটনার সঙ্গে পারিবারিক কোনও বিবাদ নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
সোমবার রাতে নিহত নেতার দেহ গ্রামে পৌঁছয়। সেখানে হাজির হন স্থানীয় তৃণমূলের কয়েকজন নেতা। গ্রামবাসীদের ভিড় উপচে পড়ে তাঁর বাড়িতে। পুলিশ ঘিরে রেখেছে গোটা গ্রামটিকেই। সইফুদ্দিন খুন, গ্রামের বাড়িতে আগুন লাগানো, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু, ভাঙচুর--- এইসব ঘটনায় পুলিশ ৩টি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।