দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার তৃতীয় ঢেউ আরও বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি করোনায় জীবনাবসান ঘটেছে নামী প্রাক্তন ফুটবলার সুভাষ ভৌমিকের। বর্তমানে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক কিংবদন্তি সুরজিৎ সেনগুপ্ত।
এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে সঙ্কটজনক অবস্থায় অ্যাপেলো হাসপাতালে ভর্তি নামী টেবল টেনিস কোচ জয়ন্ত পুশিলাল। তিনি রয়েছেন ভেল্টিলেশনে। প্রবাদপ্রতীম কোচের ডায়াবেটিসসহ কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। করোনা সংক্রমণের ফলে তার প্রভাব আরও বেড়েছে।
সোমবার তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত আইসিসিইউতে আছেন তিনি। সামান্য উন্নতি হলেও চিকিত্সকদের মতে, চব্বিশ ঘণ্টা না গেলে তাঁকে নিয়ে কিছু বলা যাবে না। অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন জয়ন্ত।
জয়ন্তর বয়স ৬০, কিন্তু টিটিতে অভিজ্ঞতা প্রায় চার দশকের। তাঁর হাত ধরে উঠে এসেছেন অনেক তারকা। অরূপ বসাক থেকে মৌমা দাসদের মতো একের পর এক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন উপহার দিয়েছেন এই নামী কোচ।
নারকেলডাঙা সাধারণ সমিতিতেই কোচিং করিয়েছেন দীর্ঘ সময়। বছর দেড়েক আগে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। রাজ্য সরকারের টিটি অ্যাকাডেমির দায়িত্বে ছিলেন জয়ন্ত। তাঁর কোচিংয়ের সেরা প্রাপ্তি হল, মৌমা সহ তাঁর তিন ছাত্রী অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করা।
বাকি দু’জন কেরালার অম্বিকা রাধিকা ও আমেরিকার লিলি জ্যাং। দ্রোণাচার্যের জন্য আবেদন করলেও জোটেনি জয়ন্তর। তবে রাজ্য সরকারের তরফে ক্রীড়াগুরু পুরস্কার পেয়েছেন অনেক আগেই।
জয়ন্তর পুত্রও নামী টিটি তারকা। জয়ন্ত কয়েকবছর আগে আমেরিকাতেও কোচিং করাতে গিয়েছিলেন। মন বসেনি বলে চলে এসেছিলেন। তারপর থেকে শহরেই ছিলেন। সব থেকে বড় কথা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে জয়ন্তর মৃদু হৃদরোগও হয়ে গিয়েছে।
মৌমা, অরূপরা নিয়মিত খোঁজ রাখছেন কোচের বিষয়ে। জয়ন্তর সর্বদা সঙ্গী আরও এক টিটি কোচ দেবাশিস চক্রবর্তীও হাসপাতালে রয়েছেন। মৌমা জানিয়েছেন, ‘‘স্যার করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেইসময় সেরে গিয়েছিলেন দ্রুত, এবারই বাড়াবাড়ি হয়েছে। তাঁর দুটি ভ্যাকসিনই নেওয়া হয়ে গিয়েছে। স্যার দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এটাই চাই।’’