
জয়ন্ত সিং
শেষ আপডেট: 13 July 2024 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আড়িয়াদহের পর সিঁথি। এবার জয়ন্ত সিংয়ের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে 'তোলাবাজি'-র অভিযোগ। আড়িয়াদহের ঘটনার রেশ কাটার আগেই সিঁথিতে মধ্যরাতে তোলা না দেওয়ায় প্রোমোটারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগের উঠল জয়ন্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে ঘটনাটিতে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও অধরা মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ মণ্ডল ওরফে রাণা।
জানা গেছে, সিথিঁর রাজেন্দ্র নাথ রায়চৌধুরি লেনে অভিজিৎ সরকার নামে এক প্রোমোটার একটি বহুতল নির্মাণের কাজ করছিলেন। অভিজিৎ জানিয়েছেন, ওই বহুতল যেখানে উঠছে সেখানে আগে ভাড়া ছিলেন এমন বেশ কয়েকজনকে 'সেটলমেন্ট' করানোর কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী অভিজিৎ মণ্ডল ওরফে রাণা দাস। কিন্তু প্রোমোটার বলেন যে তিনি নিজেই ভাড়াটেদের সঙ্গে বিষয়টি বুঝে নেবেন।
অভিযোগ, এরপরই প্রোমোটারের থেকে রাণা ৫ লক্ষ টাকা চায়। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার রাতে প্রোমোটারের অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বেশ কয়েকজন যুবক। বেধড়ক মারধর করা হয় ওই প্রোমোটার অভিজিৎকে। গুরুতর জখম অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন প্রোমোটার।
সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, তিনটি বাইকে আট-দশ জন যুবক প্রোমোটারের অফিসে চড়াও হয়। অফিস ঘর থেকে টাকা লুটেরও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী হামলা চালানোর সময়ে সিসিটিভি লক্ষ্য করার পর সেগুলি ভেঙে ফেলে হামলাকারীরা। জয়ন্ত বাহিনীর তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় প্রোমোটারের অফিস।
আক্রান্ত প্রোমোটার জানিয়েছেন, হামলাকারীরা নিজেদের জয়ন্ত কিং এবং বিধায়ক অতীন ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেন। এপ্রসঙ্গে অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। তবে মূল অভিযুক্তকে রাণাকে তিনি চেনেন। কিন্তু রাণা সত্যি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলেও আশ্বাস তৃণমূল বিধায়কের।
ঘটনাটিতে কাশীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রোমোটার। ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ । উপযুক্ত ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে এই ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
প্রথমে মা-ছেলেকে রাস্তায় ফেলে পেটানো, তার পর একের পর এক নির্মম অত্যাচারের ভিডিয়ো সামনে আসায় রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে আড়িয়াদহ তালতলা স্পোর্টিং ক্লাব। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নাম জড়িয়েছে শাসক ঘনিষ্ঠ জয়ন্ত সিং ওরফে জায়ান্ট ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে জয়ন্ত। কিন্তু তার শাগরেদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনও থামছে না।