দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও হিজবুল মুজাহিদিনের গোপন ঘাঁটি ঘিরে ফেলল সেনাবাহিনী। রবিবার ভোর থেকেই গুলির লড়াই শুরু হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলায়। খতম হয়েছে হিজবুলের এক সক্রিয় সদস্য। সেনা সূত্রে খবর, আরও এক জঙ্গি জখম। শহিদ হয়েছেন এক জওয়ানও।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবেন্দ্র আনন্দ জানিয়েছেন, কাশ্মীরের নানা জায়গায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে হিজবুল গোষ্ঠী। তাদের চিফ কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু নিকেশ হওয়ার পরে ফের নতুন করে নাশকতার ছক কষা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। কাশ্মীরের ডোডা জেলায় হিজবুলের একটি দল লুকিয়ে আছে জানতে পেরেই সেখানে আচমকা অভিযান চালায় সেনাবাহিনী ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল টিম। এদিন ভোরেই ঘিরে ফেলা হয় হিজবুলের ওই গোপন ডেরা। সেনার উপস্থিতি টের পেয়েই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। তেড়ে জবাব দেয় ভারতীয় বাহিনীও।
আইজিপি (জম্মু) মুকেশ সিং বলেছেন, সেনার গুলিতে হিজবুলের আরও এক সক্রিয় সদস্য খতম হয়েছে। এই জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম অউকাফ। হারুণ আব্বাস ওয়ানি গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ। এই হারুণ আব্বাসকে আগেই খতম করেছিল সেনাবাহিনী।
পুলিশ সুপার মনোজ শেরি বলেছেন, গতকাল রাত থেকেই হিজবুলের গোপন ডেরা ঘিরে ফেলেছিল সেনারা। এদিন ভোর থেকে শুরু হয় অপারেশন। গুলিতে আরও এক জঙ্গি জখম হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এনকাউন্টার চলছে। এলাকা ঘিরে রেখেছে জওয়ানরা।
লকডাউনে বারে বারেই রক্তাক্ত হচ্ছে উপত্যকা। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, কিস্তওয়ার ও রমবান জেলায় সন্ত্রাস অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। তবে ডোডাকে এখনও জঙ্গি মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ যাবৎ হান্দওয়ারা এনকাউন্টার এ যাবৎ ভারতীয় সেনার অন্যতম সফল জঙ্গিদমন অভিযান। উপত্যকার হিজবুল মুজাহিদিনের চিফ কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু ও হিজবুলেরই আরও এক সক্রিয় সদস্যকে নিকেশ করে ভারতীয় বাহিনী। এই এনকাউন্টারে মুখোমুখি জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই করে শহিদ হন রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ২১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্নেল আশুতোষ শর্মা, সেনা জওয়ান মনোজ অনুজ সুড, রাজেশ কুমার, দীনেশ সিং এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সাব ইনসপেক্টর শাকিল কাজী।
সেনা সূত্র জানাচ্ছে, রিয়াজ নাইকু খতম হওয়ার পরদিনই ডোডা জেলা থেকে হিজবুলের আরও এক সক্রিয় সদস্য রাকিব আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, কাশ্মীরের নানা জায়গায় ডেরা বানিয়ে গোপন শলা পরামর্শ করছে হিজবুল গোষ্ঠী। রিয়াজের মৃত্যু এই জঙ্গি সংগঠনের কাছে একটা বড় ধাক্কা। প্রত্যাঘাতের জন্য বড় নাশকতার চেষ্টা করতে পারে পাক মদতপুষ্ট এই জঙ্গি সংগঠন।