দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯-এর নভেম্বর থেকে দিল্লিতে শুরু হওয়া সিএএ বিরোধী আন্দোলনের কথা মনে পড়ে? জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সেই আন্দোলনের এপিসেন্টার। জামিয়ার ছাত্রছাত্রীরা শাহিনবাগের জমায়েতকে আরও তেজি করে তুলেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক মন্ত্রী থেকে শুরু করে মনোজ তিওয়ারির মতো তাবড় বিজেপির নেতারা বলেছিলেন, ওই ক্যাম্পাস হল দেশদ্রোহীদের মৃগয়াক্ষেত্র। সেই জামিয়ার উপাচার্য নাজমা আখতারকে পদ্মশ্রী দিচ্ছে কেন্দ্র।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার পদ্ম পুরস্কারের তালিকা ঘোষণা করেছে। তাতে শিক্ষা ও সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য নাজমাকে পদ্মশ্রী দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এই ঘোষণার পর, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জামিয়ার ভিসি।
২০১৯ সালে জামিয়ার ভিসি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নাজমা আখতার। তার আগে তিনি কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তার আগে দেড় দশক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান ছিলেন তিনি।
জামিয়ার উপাচার্য নিযুক্ত হওয়ার পর একটি রেকর্ডও গড়েছেন নাজমা। দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা উপাচার্য। এ ব্যাপারে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, শিক্ষায়তনে নারী ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার পর থেকে দেশের কোনও সরকারই তেমন গা করেনি। তবু বর্তমান সরকার কিছুটা হলেও ভূমিকা নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে তিনি ন্যাকের এ প্লাস প্লাস প্লাস শিরোপা আদায় করে আনতে পেরেছেন। এই সাফল্যের জন্যই তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে।
তবে শাহিনবাগের আন্দোলন, জামিয়া ক্যাম্পাসের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট করেই তিনি বলেছেন, এটা ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপার। তিনি এও বলেছেন, ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার প্রশ্ন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সে ব্যাপারে তিনি আপস করবেন না।
এমনিতে পদ্ম পুরস্কার ঘোষণার পিছনে রাজনীতির অভিযোগ নতুন নয়। কংগ্রেস আমল থেকেই তা চলে আসছে। বিজেপি জমানাতেও তার অন্যথা হয়নি। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, জামিয়ার ভিসি-কে পদ্ম পুরস্কার দিয়ে কেন্দ্র বোঝাতে চাইল জামিয়া সম্পর্কে তাদের কোনও অসূয়া নেই। বিরোধীরা যে অভিযোগ তুলত, সেটাকেই কিছুটা ভোঁতা করে দেওয়ার চেষ্টা বলে মত অনেকের।