দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশ জুড়ে করোনাভাইরাসের অতিমহামারীর মধ্যেই জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হিংসা নিয়ে সক্রিয় হল পুলিশ। শনিবার ওই হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের কর্মী শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করা হল।
অভিযোগ, গত ১৩ ডিসেম্বর শারজিল ইমাম ভাষণে দাঙ্গাহাঙ্গামায় উস্কানি দেন। তার দু'দিন পরে জামিয়ার এন আর সি বিরোধী ছাত্রেরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ২৮ জানুয়ারি বিহারের জেহানাবাদ থেকে শারজিল ইমাম গ্রেফতার হন।
তার পরে শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পরামর্শ দেওয়া হয়, “শারজিল ইমামের মতো পোকামাকড়দের অবিলম্বে শেষ করে ফেলা উচিত।” তার হাত কেটে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিছুদিন আগে শারজিলের এক ভাষণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে তিনি বলছেন, যদি পাঁচ লক্ষ লোককে সংগঠিত করা যায়, আমরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারি।
সামনার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “শারজিল চায় ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলটা দখল করে ভারতকে ভাগ করতে। তার হাতদু’টি কেটে নেওয়া উচিত। সেগুলি চিকেনস নেক করডোরে প্রকাশ্যে সকলকে দেখানো উচিত।” অমিত শাহের উদ্দেশে বলা হয়েছে, “শারজিলের মতো পোকামাকড়কে অবিলম্বে ধ্বংস করা দরকার। তবে অমিত শাহ যেন শারজিলের নাম করে রাজনীতি না করেন।”
নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে বলা হয়েছে, “সেই বিক্ষোভে কেউ দেশবিরোধী স্লোগান দেয়নি। জেএনইউয়ের ওই ছাত্র যে স্লোগান দিয়েছে, তা উস্কানিমূলক তো বটেই, সেই সঙ্গে দেশবিরোধী।” দিল্লির ভোটের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়েছে, “শারজিলের মতো লোকের জন্য বিজেপি ভোটের আগে ইস্যু পেয়ে যাচ্ছে।” শিবসেনার বক্তব্য, দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। সামনা-র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “দেশে শ্রেণিসংগ্রাম, চূড়ান্ত অশান্তি এবং গৃহযুদ্ধ শুরু করার চক্রান্ত চলছে।” পরে বলা হয়েছে, শিক্ষিত উচ্চশ্রেণিকে সন্ত্রাসবাদে টেনে আনার চেষ্টা চলছে।