দ্য ওয়াল ব্যুরো : লাভ জিহাদ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন। এই দু'টি বিষয়ে আলোচনার জন্য গত রবিবার হরিয়ানার পতৌদি অঞ্চলে মহাপঞ্চায়েত ডাকা হয়। গতবছর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী সভায় যে গুলি চালিয়েছিল, সেই ১৭ বছরের কিশোর ভাষণ দেয় মহাপঞ্চায়েতে। সে হুমকি দিয়ে বলে, "যদি আমি জামিয়া অবধি যেতে পারি, তাহলে পতৌদিও এমন কিছু দূরে নয়। সন্ত্রাসবাদী মানসিকতার লোকেরা যেন সাবধান থাকে।"
উপস্থিত জনতাকে সে বলে, লাভ জিহাদের মাধ্যমে মুসলমানরা যদি হিন্দু মেয়েদের 'নিয়ে নেয়', তাহলে আমাদেরও মুসলিম মেয়েদের অপহরণ করা উচিত। তার ভাষণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাকে বলতে শোনা যায়, আমরা যদি আক্রমণ করি, মুসলিমরাও জয় শ্রীরাম বলবে।
২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি ওই ছেলেটি সিএএ বিরোধী সমাবেশে গুলি চালায়। সে বলে 'ইয়ে লো আজাদি!' স্লোগান দেয় 'দেশ মে জো রহনা হোগা, বন্দে মাতরম্ কহনা হোগা', 'দিল্লি পুলিশ জিন্দাবাদ!' তার গুলিতে এক ছাত্র আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলে। তার নামে খুনের মামলা হয়। পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের এক পদস্থ অফিসার জানান, তাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়েছিল। কয়েক মাস পরে সে ছাড়া পেয়ে যায়। পতৌদির মহাপঞ্চায়েত সম্পর্কে তিনি বলেন, এখনও কেউ এসম্পর্কে অভিযোগ করেনি। তবে আমরা তদন্ত করছি।
গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের জেরে দিল্লিতে দাঙ্গা হয়। ৫০ জনের বেশি মারা যান। আহত হন আরও অনেকে। বিপুল সম্পত্তির ক্ষতি হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে ওই দাঙ্গার ওপরে ১৭ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। তাতে নাম আছে ১৫ জনের। তাঁরা সকলেই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। কিন্তু ওই আইনের পক্ষে যাঁরা মিটিং-মিছিল করেছিলেন, তাঁদের কারও নাম চার্জশিটে নেই।
চার্জশিটে ২৬০০ পাতা জুড়ে অভিযুক্তদের অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে কয়েক হাজার পাতার অ্যানেক্সচার। কয়েকটি ক্ষেত্রে সন্ত্রাসদমন আইনে চার্জ আনা হয়েছে।
চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সাসপেন্ডেড আপ কাউন্সিলার তাহির হুসেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও তদন্ত চলছে। পরে একটি সাপ্লিমেনটারি চার্জশিট পেশ করা হবে। তাতে আরও কয়েকজন অভিযুক্তের নাম থাকবে।
পুলিশ এদিন আদালত বলে, "চার্জশিটে যে ষড়যন্ত্রকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে দাঙ্গাবাজদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল। সিলামপুর ও জাফরাবাদে দাঙ্গা করার জন্য দু'টি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছিল। দাঙ্গায় ওই দু'টি এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
পরে বলা হয়েছে, ষড়যন্ত্রকারীরা দাঙ্গার ছক কষেছিল। এলাকার মাঝারি স্তরের নেতারা সেই ছক কার্যকর করার দায়িত্বে ছিল। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল দাঙ্গাবাজদের। পুলিশের দাবি, ছাত্ররা ২০ কিলোমিটার হেঁটে দাঙ্গায় অংশহগ্রহণ করতে এসেছিল।