
যুগল কিশোর মন্দির
শেষ আপডেট: 12 June 2024 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে ভক্তদের ঢল নামল আড়ংঘাটার যুগল কিশোর মন্দিরে। প্রথা মেনে সকাল সকাল সকাল স্নান সেরে চূর্ণী নদীর ধারে যুগল কিশোর মন্দিরে ভিড় জমালেন শাশুড়িরা। পুজো সেরে প্রথমে যুগল কিশোরকে বরণ করবার পর তবেই মেয়ে জামাই বরণ করেন এখানকার মানুষ।
ইতিহাস বলছে, বাংলার এই যুগল কিশোর মন্দিরটি ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। বহু প্রাচীন এই মন্দির চত্বরেই বসে জামাই ষষ্ঠীর মেলা। মন্দির নিয়ে যত গল্প, তেমনি মেলা নিয়েও। বর্তমানে এই মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন শ্যামদাস মহন্ত। তিনি শোনালেন সেই গল্প।
বর্তমান মহন্ত জানান, মহর্ষি গঙ্গারাম দাস বৃন্দাবন থেকে গোবিন্দকে নিয়ে এসেছিলেন। নানা জায়গা ঘোরার পর চূর্ণী নদীর ধারে একটি বকুল গাছের তলায় গোবিন্দকে নিয়ে তিনি থিতু হন। বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর ভগবান তাঁর স্বপ্নে আসেন। জানান একা থাকতে ভাল লাগছে না,মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে রাধারানি রয়েছে। সেখান থেকে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এখানে। কিন্তু মহারাজের কাছে গিয়ে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। মহারাজ তাঁকে জানিয়ে দেন, তাঁর মন্দিরে যুগলে রয়েছে রাধারানি। তাঁকে আলাদা করা যাবে না।
ফিরে আসার পর আবার রাতে স্বপ্ন দেখেন মহর্ষি গঙ্গারাম দাস। ভগবান তাঁকে জানান, প্রাসাদের ভাঙা দেওয়ালে একাকী রয়েছেন রাধারানি। শুরু হয় খোঁজ। অবশেষে প্রাচীর গাত্রেই পাওয়া যায় রাধারানিকে। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র নদীপথে মন্দিরে এসে এক বৈশাখী সংক্রান্তির দিন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর থেকেই এই মন্দিরের নাম হয় যুগল কিশোর মন্দির। পরের দিন পয়লা জ্যৈষ্ঠ ছিল জামাইষষ্ঠী। সেই দিনটিকে স্মরণ রেখে আজও চলে আসছে এই জামাইষষ্ঠীর মেলা।
৩০০ বছরেরও প্রাচীন এই মেলা। লোককথাকে মান্যতা দিয়ে জামাইষষ্ঠীর দিন ভিড় জমান শাশুড়িরা। সঙ্গে মেয়ে জামাই। দূরদূরান্ত থেকে যুগল মন্দিরে পুজো দিতে আসেন সবাই। আড়ংঘাটা স্টেশন থেকে হাঁটা পথে চূর্ণী নদীর ধারে এই যুগল মন্দিরে প্রাচীন সেই বকুল গাছ আজও বর্তমান। জামাই মেয়ের মঙ্গল কামনায় শাশুড়িরা প্রথমে যুগল কিশোরকে বরণ করবার পর মেয়ে জামাইকে বরণ করেন। হয়তো আগের জৌলুস নেই। কিন্তু ঐতিহ্য আর সাবেকিয়ানায় এখনও অনন্য আড়ংঘাটার জামাইষষ্ঠীর মেলা।