দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার কেন্দ্রে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এদিনই রাশিয়া যেতে হচ্ছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরকে। জানা গিয়েছে, তেহরান হয়ে মস্কো যাবেন বিদেশমন্ত্রী। সেখানে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আলোচনা করবেন আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থান নিয়ে। গত ১৬ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা লাভরভ জানাবেন জয়শংকরকে।
আফগানিস্তান থেকে সরে আসছে ন্যাটো বাহিনী। ফলে পুরো আফগানিস্তান ফের তালিবানের দখলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেজন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। কারণ মার্কিন সৈন্যের থেকে বিপুল সংখ্যক স্নাইপার রাইফেল, হ্যান্ড হেল্ড রেডার এবং শোল্ডার ফায়ারড মিসাইল কেড়ে নিয়েছে তালিবান। সেই অস্ত্র এবার জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের হাতে আসতে পারে।
কিছুদিন আগেই কাশ্মীরে জৈশ ই মহম্মদ ও লস্কর ই তৈবার জঙ্গিদের কাছে আমেরিকায় নির্মিত এম ফোর রাইফেল পেয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তার ওপরে আফগানিস্তানে যদি জেহাদিরা জয়ী হয়, তাহলে কাশ্মীর বাদে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষত উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে জঙ্গিরা তৎপর হয়ে উঠতে পারে।
চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ইতিমধ্যে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর ভারতের ওপরে চাপ সৃষ্টি করেছে। তার ওপরে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্থান হয়েছে তালিবানের। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। আগামী দিনে আফগানিস্তানে যদি তালিবানের বাড়বাড়ন্ত না রোধ করা যায়, তাহলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকতে হবে ভারতকে।
আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানে বিপদে পড়তে পারে রাশিয়াও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আর কয়েক মাসের মধ্যে কাবুল দখল করে নিতে পারে তালিবান। কারণ সেক্ষেত্রে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হবে। তালিবানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ইরানও। কারণ তারা ক্ষমতায় এলে ফের আফগানিস্তান থেকে আসবে উদ্বাস্তু স্রোত। তালিবানের অত্যাচারে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে আসবেন ইরানের জাহেদান অঞ্চলে।
গত ২ জুলাই ইতালিতে জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে বৈঠক করে ভারতে ফিরেছেন জয়শংকর। তিনি জানান, ওই গোষ্ঠীতে ভারতের সহযোগী দেশগুলি মনে করেন, করোনা অতিমহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা ঠিকই সামলে ওঠা যাবে। ভারতের অভ্যন্তরে অনেকে আশঙ্কা করছেন, অর্থনীতি বেহাল হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু জি-২০ গোষ্ঠীর ধারণা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সব সমস্যা কাটিয়ে উঠবে।