দীর্ঘ আট বছর পরে গত মঙ্গলবার আবার নবাবগঞ্জের সেই গোলাবাড়ি রেল স্টেশনে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের মুখোমুখি হন ফিটু। তবে এবার অনেকটাই শান্ত যেন, চেহারাও ঝরে গেছে। একটাই মিল, এবারও তাঁর মুখে 'জয় জগনাথো'। সব দেখেশুনে ফিটুর মনে হয় তিনি কোনওভাবেই বাংলাদেশের লোক নন। ভারতের নাগরিক। ওড়িশা থেকে কোনওভাবে চলে এসেছেন পথ ভুলে।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর আটেক আগের কথা। মাথায় বড় বড় চুল, পরনে অপরিচ্ছন্ন বেশবাস। বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জের গোলাবাড়ি রেলস্টেশনে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এক যুবক। উদাস চাহনি, কেউ কোনও কথা জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দিচ্ছিলেন না। মাঝেমধ্যে শুধু বলছিলেন "জয় জগনাথো"।
দেখেশুনে কেমন যেন সন্দেহ হয়েছিল আব্দুল গণি ফিটুর। মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য কাজ করেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাতেই ভরঘুরে ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলতে যান। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। বেদম মার মেরে তাঁর নাক মুখ ফাটিয়ে ফেলে ওই যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় আব্দুল গনি ফিটুকে। আশেপাশের লোকজনকে লক্ষ্য করে রেললাইনের পাথর ছুঁড়তে থাকায় ওই যুবকের দিকে আর এগোতে সাহস পাননি কেউ।
দীর্ঘ আট বছর পরে গত মঙ্গলবার আবার নবাবগঞ্জের সেই গোলাবাড়ি রেল স্টেশনে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের মুখোমুখি হন ফিটু। তবে এবার অনেকটাই শান্ত যেন, চেহারাও ঝরে গেছে। একটাই মিল, এবারও তাঁর মুখে 'জয় জগনাথো'। সব দেখেশুনে ফিটুর মনে হয় তিনি কোনওভাবেই বাংলাদেশের লোক নন। ভারতের নাগরিক। ওড়িশা থেকে কোনওভাবে চলে এসেছেন পথ ভুলে।
পুরনো পরিচয়ের সূত্রে সঙ্গে সঙ্গে হ্যাম রেডিওর ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ফিটু। এরপর অম্বরিশের পরামর্শে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তির পাশে বসে তাঁকে চা খাওয়ান। তিনি কোথা থেকে এসেছেন জানতে চান। তখন ফিটুর কাছে খাবার চান ওই ব্যক্তি। খাবার খেতে দিয়ে বন্ধুদের ডেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু এবার আর কোনও রকমের জোর করতে হয়নি। নিজে থেকেই ফিটুদের সঙ্গে তাঁদের আশ্রয়ে চলে আসেন।
অম্বরিশবাবু জানান, ফিটুর কাছে বিষয়টা জানার পরেই তাঁরা ছবি চেয়ে পাঠান। শুরু হয় তাঁর পরিবারের খোঁজ। তিনি বলেন, "সত্যিই ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ওঁর পরিবারকে আমরা খুঁজে বের করি। পরিবার সূত্রে জানতে পেরেছি বছর ১৫ আগে হারিয়ে গিয়েছিল বাড়ির ছোটছেলে সুদাম হেমব্রম। সুদামের বাবা কিশোর হেমব্রম পেশায় কৃষক ছিলেন। সুদাম ও তাঁর দাদাও চাষ-আবাদ করত। হঠাৎ একদিন নিখোঁজ হয়ে যান। এখন বাড়িতে রয়েছে সুদামের ভাইপো সুভাষ হেমব্রম। এতদিন পর কাকার ছবি দেখে কেঁদে ফেলে সে।"
দ্রুতই কাকাকে দেশে ফেরত আনতে চান সুভাষ। অম্বরিশবাবু বলেন, "কোনও ভারতীকে পেলেই আমাদের জানান ফিটু। এখনও পর্যন্ত ২২ জন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে ঠিকানা খুঁজে বের করে আইনি জটিলতা কাটিয়ে দেশে ফেরত আনতে পেরেছি। সুদামকে ঘরে ফেরানোর জন্যেও চেষ্টা শুরু করেছি আমরা। ভারতীয় হাইকমিশনকে জানানো হয়েছে। সুদামের পরিবারকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে বলা হয়েছে।" এখন সুদামের পরিবারের মতো হ্যাম রেডিও ক্লাবও তাঁর দেশে ফেরার অপেক্ষায়।