
শেষ আপডেট: 21 April 2022 09:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে (Jahangirpuri) পুরনিগমের বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের (Jahangirpuri Demolition) উপর গতকালই স্থগিতাদেশ চাপিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আজ সেই আদেশের মেয়াদ আরও ২ সপ্তাহ বাড়িয়ে আদালত জানিয়ে দিল, উচ্ছেদ অভিযানের নামে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে (Delhi Jahangirpuri) কোনও ভাঙাভাঙি করা যাবে না। এই নির্দেশের পরে যদি একটিও নির্মাণ ভাঙা হয়, তাহলে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
কিছুদিন আগে বেআইনি ভাবে সরকারি জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ জানিয়ে পুরসভাকে চিঠি দিয়েছিল দিল্লির বিজেপি প্রধান আদেশ গুপ্তা। চিঠি পাওয়ার পরে, সেই নির্মাণকারীদের হটাতেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় গতকাল সকা থেকে। শুরু হয় চরম উত্তেজনা। রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা একের পর এক ঠেলাগাড়ি, ছোট দোকান এমনকি বস্তির ঘরবাড়ি– একের পর এক সব ভাঙা হয় বুলডোজার চালিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও সফল হননি।
উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়৷ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট দুষ্মন্ত দাভে, কপিল সিব্বল, পাভ সুরেন্দ্রনাথ এবং প্রশান্ত ভূষণ।
আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে সওয়াল করার সময়ে আদালতে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গিরপুরী। সেকানে এটা সম্পূর্ণ বেআইনি একটা ধ্বংসযজ্ঞ। কাউকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। কারও কথাও শোনা হয়নি। আমরা এই অভিযান বন্ধের আবেদন করছি।’ এর পরেই প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা বলেন, ‘ঠিক আছে, আমরা উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ দিচ্ছি। আগামিকাল শুনানি হবে।’
আজ, বৃহস্পতিবারের সেই শুনানিতে উত্তর দিল্লি পুরসভার হয়ে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান, ফুটপাতের উপর ছোট ছোট কিছু নির্মাণ এবং জিনিসপত্রই ভাঙা হয়েছে। কিন্তু আদালত পাল্টা প্রশ্ন তোলে, 'চেয়ার, টেবিল, বাক্স এবং ছোট ছোট জিনিস ভাঙতে বুলডোজারের প্রয়োজন পড়ে বুঝি?'
এদিন দুষ্মন্ত দাভে শুনানি চলার সময়ে দাবি করেন, একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিশানা করে উচ্ছেদ অভিযানের নামে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, যা দেশের সংবিধানের পরিপন্থী। আর এক আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে জানান, বেআইনি নির্মাণ বলে যেগুলি ভাঙা হয়েছে, তার কোনওটিই যে বেআইনি নয়। সবকটির নথি আছে। এমনকি উচ্ছেদ করতে আসা পুরসভার কর্মীদের সেই সব নথি দেখানোও হয় বলে জানান তিনি। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই ভাঙচুর চলে বলে অভিযোগ।
বুধবারের এই ভাঙচুর নিয়ে দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবও তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ভাঙচুরের আগে আদৌ কোনও নোটিস দেওয়া হয়েছিল কিনা, আবেদনকারীদেরও তা হলফনামা জমা দিয়ে জানাতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রা ঘিরে সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিস্থতি তৈরি হয় দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী এলাকায়। এই উত্তেজনার আবহেই গতকাল, বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দিল্লি পুরসভার ন’টি বুলডোজার ওই এলাকায় পৌঁছয়। শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।
এর পরে আদালত অভিযান থামানোর নির্দেশ দিলেও বুলডোজারের চাকা থামেনি। একে একে ভাঙতে থাকে ছোট ছোট দোকান, নানা নির্মাণ। এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদের দেওয়াল এবং ফটকও ভেঙে দেওয়া হয়। শেষমেশ বামনেত্রী বৃন্দা কারাট আদালতের অর্ডার হাতে নিয়ে কার্যত বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান থামান।
ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে আবার ধর্ষণ! পরে সেই ভিডিও ভাইরালও করল অভিযুক্তরা
আনসার থেকে প্রেম শর্মা, জাহাঙ্গিরপুরী হিংসার মূল পাঁচ ভিলেনকে চিনে নিন