
শেষ আপডেট: 11 November 2023 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: জগদ্ধাত্রী পুজোর মণ্ডপ তৈরি করতে গিয়ে কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলার অভিযোগ উঠল। সে ছবি ভাইরাল হতেই শোরগোল ভদ্রেশ্বরে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভুল শিকার করে ক্ষমা প্রার্থী, না জেনে ভুল বলে দাবি।
ভদ্রেশ্বর খেয়ালি সংঘের জগদ্ধাত্রী পুজো হয় ভদ্রেশ্বর পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড শরৎ সরণীতে। সেখানেই গত কয়েক দিন ধরে মণ্ডপ তৈরির জন্য বাঁশ বাঁধার কাজ করছিলেন ডেকরেটর্সের কর্মিরা। তিনদিন আগে এখানেই একটি ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে। জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর দুপুরে মণ্ডপের বাঁশ বাধা চলছিল। শরৎ সরণীর উপর কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। আর সেই মূর্তিতে দড়ি দিয়ে বাঁশ বাঁধা হয়। পথচলতি কেউ সেই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই নিন্দার ঝড় ওঠে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হুগলির দেবানন্দপুরে। এমন একজন সাহিত্যিককে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেটিজেনরা। নানা মন্তব্যে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া।
খেয়ালি সংঘের এক সদস্য কল্যাণ চক্রবর্তী জানান, “এই ঘটনায় তাঁরা খুবই লজ্জিত। এই ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি, এটি অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল। যার জন্য তাঁরা ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, “এই ঘটনা ঘটার পনেরো মিনিটের মধ্যে আমার কাছে খবর আসে। আমি নিজে ঘটনাস্থলে এসে ডেকরেটার্সের কর্মীদের ওই দড়ি ও বাঁশ খুলে দিতে বলি। তবে যারা এই ছবি ভাইরাল করেছে, তারা ঠিক করেনি। এটা শিক্ষিত সমাজের সংস্কৃতি নয়। তবে ভুলটা ভুল। তার জন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। এটা যারা করেছে তারা বারোয়ারিকে ছোট করার জন্য করেছে। কারণ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর একটা ঐতিহ্য আছে।”
প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি বিজেপি নেত্রী বন্দনা গাঙ্গুলি বলেন, “আমি এই ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছর যুক্ত ছিলাম। এরা এই ধরনের নয়। তবে যাঁরা এই কাজ করেছে তারা হয়তো মূর্তিটি কার সেই বিষয়ে অবগত নন। তাই এমন কাজ করে ফেলেছেন। যারা এই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করেছে, তাদেরও ভাবা উচিত ছিল যে, এই ছবি ছাড়লে বাংলার অপমান হবে। তাদের উচিৎ ছিল ক্লাব ও এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলা।”