
শেষ আপডেট: 16 December 2023 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজকার মতো কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মা। বাড়িতে একাই ছিল বছর সতেরোর মেয়ে। দিন কয়েক ধরেই সে নাকি মনমরা ছিল, কিন্তু কেন তা জানা যায়নি। হাজার প্রশ্নেও উত্তর মেলেনি। কিন্তু মেয়ে যে চরম পদক্ষেপ করে ফেলবে ওই নাবালিকা তা ভাবতেই পারেননি। কাজ সেরে বাড়ি ফিরে মা দেখেন মেয়ে আর নেই!
ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, গড়িয়ার একটি বাড়িতে থাকত মা ও মেয়ে। কয়েক বছর আগে ওই ছাত্রীর বাবা মারা যান। মেয়ের পড়াশোনার খরচ, সংসার খরচ চালাতে চাকরি শুরু করেন ওই নাবালিকার মা। সকালে উঠে কোনওরকমে রান্নাবান্না করে কাজে বের হতেন তিনি। বাড়িতে প্রায় একাই থাকতেন তাঁর মেয়ে।
শুক্রবার রাতে কাজ থেকে ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করেও লাভ হয়নি। মহিলার চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। দরজা ভেঙে দেখা যায় সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস দিয়েছে নাবালিকা। পাশে বিরিয়ানির প্যাকেট পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, বিরিয়ানি খেতে খুব ভালবাসত মেয়েটি। ফর্মফিলাপের জন্য যে টাকা পেয়েছিল তা দিয়েই বিরিয়ানি কিনে আনে পাড়ার দোকান থেকে। তারপরই এমন কাজ করল।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছে ওই নাবালিকা। কেন সে এই পথ বেছে নিল সেটাই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। মৃতার পরিবারের দাবি, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে স্কুলের টেস্টে পাশ করতে পারেনি সে। মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা করেছে।
নাবালিকা যাদবপুর বিদ্যাপীঠের ছাত্রী। তার এক আত্মীয় জানিয়েছেন, দিন কয়েক আগেই স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছিল। রেজাল্ট বের হতে দেখা যায় ওর লিস্টে নাম নেই। সেটা বাড়িতে বলেনি। উল্টে ফর্ম ফিলাপের জন্য টাকাও নিয়েছিল। বাড়িতে সে জানিয়েছিল পাশ করেছে। তার মা তাকে রেজাল্টের ছবি তুলে আনতে বলে। তাতেই ভয় পেয়ে যায়। দু'তিনদিন ধরে মনমরা ছিল। তারপরই এই কাণ্ড ঘটাল। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ধারায় মামলা রুজু করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।