দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় উদ্যোগপতি রীতেশ আগরওয়াল কিছুদিন আগে একটি হোটেল খুলেছেন নিউ ইয়র্কে। তার নাম ওওয়াইও হোটেল। রীতেশ জানিয়েছেন, যে ডাক্তার ও নার্সরা করোনাভাইরাস মোকাবিলার কাজ করছেন, তাঁদের জন্য হোটেলের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। তাঁরা বিনা খরচায় হোটেলে থাকতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিনিয়র অ্যাডভাইসার ইভাঙ্কা ট্রাম্প বলেন, রীতেশ উদার মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর উদারতার জন্য আমেরিকায় করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ট সুবিধা হবে।
কিছুদিন আগে ওওয়াইও হোটেল থেকে টুইট করে বলা হয়, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী আমাদের হোটেলে বিনাপয়সায় থাকতে পারবেন। ইভাঙ্কা সেটি রিটুইট করেছেন। ৩৮ বছর বয়সী ট্রাম্প কন্যা লিখেছেন, রীতেশের এই উদ্যোগ আমাদের জাতিকে সাহায্য করবে।
গত ২৪ মার্চ ওওয়াইও হোটেল থেকে প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাদের হোটেলে বিশ্রাম করতে পারেন, স্নান করতে পারেন, তাঁদের কোনও খরচ লাগবে না। নর্থ ক্যারোলিনা মেডিক্যাল সোসাইটির সিইও রবার্ট সেলিগসন বলেন, ওওয়াইও-র এই অফার প্রকৃত আমেরিকান স্পিরিটকেই তুলে ধরেছে। তাঁর কথায়, "আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে এমন কোনও চ্যালেঞ্জ নেই যার মোকাবিলা করতে পারব না। এই অভুতপূর্ব পরিস্থিতিতে ওওয়াইও হোটেল যেভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি আশা করব, বাকিরাও তাদের উদাহরণ অনুসরণ করবে।"
এর আগে শোনা যায়, আমেরিকায় শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন নিউ ইয়র্কে ঘরে আটকে থাকা মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করছেন। তাঁরা সোমবার থেকে ৩০ হাজার মানুষের উপযোগী খাবার তৈরি করে তুলে দিচ্ছেন সরকারের হাতে। ফেডারেল গভর্নমেন্ট বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটিং এজেন্সির মাধ্যমে সেই খাবার সরবরাহ করছে কোয়ারান্টাইনে থাকা আমেরিকানদের কাছে।
খাবার তৈরি করার সময় শিখ পরিবারগুলিকে ফুড হাইজিনের নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হচ্ছে। রান্না করার সময় তাঁদের মুখে থাকছে মাস্ক। হাতে থাকছে গ্লাভস। রান্নাঘরে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের পরস্পরের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে।
আমেরিকান গুরুদোয়ারা প্রবন্ধিক কমিটি (ইস্ট কোস্ট)-এর কো-অর্ডিনেটর হিমন্ত সিং জানিয়েছেন, “শিখ স্বেচ্ছাসেবীরা রান্না করছেন নিরামিষ খাবার। তাতে থাকছে ভাত, শুকনো ফল ও শাকসবজি।” পরে তিনি বলেন, “রবিবার থেকে খাবার তৈরি শুরু হয়েছে। পরে খাবার প্যাকেজিং করা হয়। সোমবার সকাল থেকে প্যাকেটগুলি ডেলিভারি দেওয়া শুরু হয়েছে।” ডেলিভারি দেওয়ার আগে অবশ্য ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখেছেন, সেই খাবার নিরাপদ কিনা।