দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকার ক্যাপিটল হিলে বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা হামলা চালায়। হামলা থামাতে পুলিশ গুলি চালালে মারা যায় চারজন। এর পরে ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প টুইটারে হামলাকারীদের বলেন 'দেশপ্রেমিক'। তখন দেশ জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। ইভাঙ্কা ওই টুইট মুছে ফেলেন। কিন্তু তার আগেই টুইটের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ইভাঙ্কা তাঁরা বাবার সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তারা যেন শান্তিপূর্ণ থাকে। তিনি লিখেছিলেন, 'আমেরিকার দেশপ্রেমিকদের বলছি, তাঁরা যেন আইনি সংস্থাগুলিকে অসম্মান না করেন। হিংসা যেন বন্ধ হয়।' সিএনএনের এক রিপোর্টার জানতে চান, ইভাঙ্কা কি হামলাকারীদের দেশপ্রেমিক বলছেন? ইভাঙ্কা বলেন, "যারা শান্তিপূর্ণ পথে বিক্ষোভ দেখায়, তারা দেশপ্রেমিক। হিংসা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। কঠোরতম ভাষায় হিংসার নিন্দা করা উচিত।"
ওয়াশিংটনের পুলিশ বৃহস্পতিবার জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত করা নিয়ে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ এবং সেনেটের বৈঠক চলছিল। সেই সময়েই বিক্ষোভকারীরা জোরজবরদস্তি বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছিল। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করলেই অশান্তি শুরু হয়ে যায়। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে, ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, আজকের দিনটিকে ইতিহাস যথাযথভাবেই মনে রাখবে। এই হিংসার পিছনে আছেন একজন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পকে দোষ দিয়ে ওবামা বলেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইনসম্মত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যা বলে চলেছেন। তিনি যে কাজ করেছেন, তাতে অসম্মানিত হয়েছে পুরো আমেরিকা। কিন্তু ট্রাম্প আচমকা কিছু করেননি।
ওবামার মতে, বেশ কিছুদিন ধরে এই হিংসার প্রস্তুতি চলছিল। তিনি বলেছেন, "দু'মাস ধরে একটি রাজনৈতিক দল ও তার অনুগত মিডিয়া তাদের সমর্থক ও দর্শকদের সত্যি কথাটা জানায়নি। সত্যি কথাটা হল এই যে, বাইডেন মোটেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ট্রাম্পকে পরাজিত করেননি।" এরপরে ওবামা সরাসরি মিথ্যা খবর প্রচারের জন্য রিপাবলিকান পার্টি ও তার সমর্থক মিডিয়াকে দায়ী করেছেন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাল্পনিক খবর প্রচার করা হয়েছে। নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভে ইন্ধন দিয়ে তাঁদের একাংশকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে হিংসার পথে।