
শেষ আপডেট: 9 March 2020 18:30
সোমবার রাতে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে দেশের দেশের উত্তরাংশের একটা বড় অংশকে কোয়ারেন্টাইন করার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ, দোকান, বাজার, সিনেমা হল, হোটেল-রেস্তোরাঁ। বাড়ির বাইরে পা রাখতে পারবেন না লোকজন। সংক্রমণ এড়াতে আপাতত তিন সপ্তাহ গৃহবন্দি হয়েই থাকতে হবে জনসাধারণকে। সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করলেই হবে জেল বা মোটা টাকা জরিমানা।
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, যে কোনও ধরনের বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি চার্চে যাওয়াও নিষিদ্ধ হয়েছে। কিছুদিন আগেই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ভ্যাটিকানের পোপ ফ্রান্সিস। তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছিল, তিনি ভাইরাস আক্রান্ত নন। মামুলি সর্দি-জ্বরে ভুগছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভক্ত-সমাগমও এড়িয়ে চলছেন পোপ।
মিলান ও ভেনিসে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল হাব প্রায় তালাবন্ধ। সেখানে তৈরি হয়েছে কোয়ারেন্টাইন জোন। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকছে বার এবং রেস্তোরাঁ। তবে সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সেখানে খেতে আসা প্রতি দু’জনের মধ্যে যেন অন্তত ৩ ফুটের ব্যবধান রাখা হয়। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ভেনিস-মিলান লাগোয়া প্রদেশে বিয়ে, যে কোনও উৎসব, শেষকৃত্যের কাজকর্ম বন্ধ থাকবে।
রোমের বেশিরভাগ সুপারমার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দৈনন্দিন জিনিসপত্র প্যাকেটবন্দি করে পাঠানো হবে লোকজনের বাড়িতে। বাজার বা দোকানে ভিড় জমানো নিষিদ্ধ।
দেশের ২৩টি জেলে বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে। কয়েকজন বন্দির শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। জরুরি অবস্থা জারি করে আক্রান্ত বন্দিদের সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
চিনে দাপট দেখিয়েই যাচ্ছে করোনাভাইরাস। আজ আরও ২৭ জন করোনা-আক্রান্তের মৃত্যু নিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়াল ৩,০৯৭। করোনা-মানচিত্রে ঢুকে পড়েছে কলম্বিয়া, বুলগেরিয়া, কোস্টা রিকা, মলদ্বীপ, প্যারাগুয়ের মতো দেশও। সব মিলিয়ে মাত্র তিন মাসেই চিনের বাইরে এই মারণ ভাইরাস বাসা বেঁধেছে অন্তত ১০৩টি দেশে। দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম মৃত্যু হযেছে এক আর্জেন্টিনীয় প্রৌঢ়ের। ফ্রান্সে ভাইরাস আক্রান্ত ৯৪৯, জার্মানিতে অন্তত ৮০০।