
জ্যোতি বসু
শেষ আপডেট: 8 July 2024 09:34
আজ সোমবার জ্যোতি বসুর ১১১তম জন্ম দিবস। তিনি জীবিত থাকাকালেই সিপিআইএম তাঁকে কিংবদন্তী ঘোষণা করেছিল। নির্বাচনে জ্যোতিবাবুর পার্টির উপর্যুপরি হতাশাব্যঞ্জক ফলের পর অনেকেই বলাবলি করছেন, জ্যোতিবাবু হয়তো জনমনে থেকে যাবেন, ক্রমে মুছে যাবে তাঁর পার্টি।
এটা মূলত কমিউনিস্ট পার্টির নিন্দুকদের কথা, যাঁরা আসলে চায় না জ্যোতিবাবুর কথাও মানুষ মনে রাখুক। যদিও দল নির্বিশেষে জ্যোতি বসুর তিনটি অবদান অবশ্যই স্মরণে রাখা জরুরি, এক. গরিব মানুষকে জমিদান, বর্গাদারদের সরকারি স্বীকৃতি। দুই. পঞ্চায়েত-পুরসভার হাতে ক্ষমতা ও দায়দায়িত্বের বিকেন্দ্রীকরণ। তিন. ন্যায্য প্রশ্নে রাজ্যের হাতে বাড়তি ক্ষমতা চেয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই, যার সুফল আজ নানাভাবে সব রাজ্যই ভোগ করছে।
সেই জ্যোতি বসুর দল সহ দেশের প্রধান দুই কমিউনিস্ট পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাম শিবিরে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ক্রমে ঘন হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে সিপিআই। সিপিএমও কতদিন সেই মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় দানা বাঁধছে।
আগামী বছর শতবর্ষে পা দেবে সিপিআই। ২০২৫-এই একশো ছোঁবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ। নীতি-আদর্শের প্রশ্নে আরএসএস ও কমিউনিস্ট পার্টি একশা ভাগ বিপরীত মেরুর সংগঠন। শতবর্ষকে সামনে রেখে অনেক বাম মনোভাবাপন্ন মানুষকে আক্ষেপ করতে শুনি, আজ কোথায় আরএসএস, আর কোথায় কমিউনিস্ট পার্টি!
আমি যদিও এই তুলনাকে অর্থহীন মনে করি। কমিউনিস্ট পার্টি একটি রাজনৈতিক শক্তি। যে কোনও রাজনৈতিক দলেরই উত্থান-পতন আছে। অন্যদিকে, আরএসএস একটি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী সামাজিক শক্তি যারা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যপূরণে রাজনীতিকে পরোক্ষে ব্যবহার করে আসছে। কাল যদি রাজনীতিতে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ে আরএসএসের লক্ষ্যপূরণ হয়তো তাতে দীর্ঘায়িত হবে; কিন্তু সংগঠন ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, ধর্মই তাদের সবচেয়ে বড় বর্ম। কমিউনিস্ট পার্টির তা নয়। কমিউনিস্ট পার্টির কথায়, ‘গরিব, মেহনতি মানুষের কল্যাণ তাদের লক্ষ্য। তারাই পাটির সম্পদ।’ দুর্ভাগ্যের হল সেই গরিব মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এখন প্রশ্নের মুখে।
অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে ছেড়ে কথা বলেননি।
জাতীয় দলের মর্যাদা হারানো সিপিআইকে এক চোট গাল পেরে সঙ্ঘের মুখপত্র 'অর্গানাইজার' কমিউনিস্ট পার্টিগুলির এমন পরিণতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুরনো কথাই বলেছে অর্থাৎ দেশকে বিদেশিদের চোখ দিয়ে দেখাটাই তাদের সবচেয়ে বড় ভুল এবং অপরাধ।
তৃণমূল কংগ্রেস এবং এনসিপি-ও জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারিয়েছে। তা সত্ত্বেও আলোচনা শুধু সিপিআইকে নিয়ে হওয়ার কারণ বাকি দল দুটি আগামী কয়েকটি ভোটেই ফের ফের সেই স্বীকৃতি ফিরে পেতে পারে। যে কথা কমিউনিস্ট পার্টি সম্পর্কে বলার অবস্থা নেই।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জ্যোতি বসু
১৯৫২-তে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ৫৩টি দলের মধ্যে তারা ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম। হতে পারে ৪৮৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ১৬টি (তৎকালীন মাদ্রাজ থেকে আটটি, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি, ত্রিপুরায় দুটি, ওড়িশায় একটি) আসনে জয়যুক্ত হয়েছিল, কিন্তু সংসদ ভবনে চার কমিউনিস্ট নেতা—ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত, ভূপেশ গুপ্ত, এসএ ডাঙ্গে এবং এ কে গোপালনের মূর্তি সংসদীয় গণতন্ত্রে কমিউনিস্টদের অবদান ও প্রভাবের স্মৃতি বহন করছে। ১৯৫৭-তে কেরলে ক্ষমতায় এসেছিল বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার। দু বছরের মাথায় সেই সরকারকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার পর পরের নির্বাচনেই দুই-তৃতীয়াংশ আসন হাত ছাড়া হয়ে যায় তাদের। তারপর তো পার্টিই ভেঙে গিয়েছিল।
নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকেই। অথচ বামপন্থীদের জন্য সেটাই হয়ে উঠছে অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, যেখানে বছরের পর বছর বামপন্থী ফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল সেখানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তারা আর ভোটারের মনে দাগ কাটতে পারছে না। সদ্য অনুষ্ঠিত লোকসভা ভোটে বাংলায় বামেদের মানুষ ফের ‘শূন্য’ দিলেও পার্টির চিন্তা বেশি কেরল নিয়ে। সেখানে আট বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এবারও রাজ্যের কুড়িটি আসনের মধ্যে সিপিএম মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করেছে।
অন্যদিকে, দাক্ষিণাত্যের ওই রাজ্যেই বিজেপি এবার খাতা খুলেছে। সিপিএমের সেন্ট্রাল কমিটির নির্বাচনী পর্যালোচনা রিপোর্ট অনুযায়ী কেরলও বঙ্গ পার্টির অসুখে আক্রান্ত। সেখানেও বাম সমর্থকদের ভোট রামের বাক্সে চলে যাচ্ছে। লোকসভা ভোটের ফল বলছে, সিপিএম তথা বামেদের হাতে থাকা একমাত্র রাজ্যটি হাতছাড়া হওয়া অসম্ভব নয়।
সিপিএমের এমন অবনমন সত্যিই অবাক করে। বেশিদিন আগের কথা নয়, নব্বইয়ের দশকে পড়শি রাজ্য বিহারে লোক মুখে ফিরত ভাকপা (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি) ও মাকমা (মার্কসবাদী কমিউনস্ট পার্টি)-র কথা। ওই সব দিনেই ভুবনেশ্বরে সিপিএমের কৃষক সভার জাতীয় সম্মেলন কভার করতে গিয়ে দেখেছি লালঝাণ্ডা হাতে স্থানীয় মানুষের বিশাল জমায়েত। চেন্নাইয়ে সিপিআইয়ের পার্টি কংগ্রেস উপলক্ষে মেরিনা বিচের সমাবেশের ভিড় দেখে মনে হয়েছিল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। এলাহাবাদ, বারাণসীতে জ্যোতি বসু, হরকিষেন সিং সুরজিতদের জনসভায় ভিড়কে বাংলার থেকে আলাদা করা যেত না।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৪-এর লোকসভা ভোটে চার বাম দল সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি মিলে পেয়েছিল ৫৯ আসন। যদিও তখনও নির্মম সত্যটি ছিল, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, তামিলনাড়ু ও কেরলের বাইরে গোটা দেশের আরও কোথায় আসন জেতা দূর থাক জমানত রক্ষা হয়নি বামেদের।
অথচ ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা, বেকারি, বঞ্চনা, দারিদ্রের মুখে বামপন্থীদের রাজনীতিই গোটা দেশে বিকশিত হওয়ার কথা। কিন্তু ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন নেই।
জ্যোতিবাবুর সেই কথাটা মনে পড়ে গেল। নব্বুয়ের দশকের মাঝামাঝি নাগাদ, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাবেশে বলেছিলেন, ‘আমাদের কৃষক সভার এক কোটির উপর সদস্য। এত বড় সংগঠন চিনের কমিউনিস্ট পার্টিরও নেই।’
বাংলায় সেই কৃষক সভা আজ আছে কি? দেশের একটা প্রান্ত যখন তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘাম-রক্ত ঝরালো, যে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন বাংলার নেতা হান্নান মোল্লা, তখন এ রাজ্যে ফসসের ন্যায্য মূল্য, চাষের সামগ্রীর খরচ কমানোর দাবিতে সিপিএমের সেই কৃষক সভার সাড়া জাগানো আন্দোলন দেখা গেল না। কৃষক সভার অস্তিত্বহীনতা বেশি প্রমাণ করে গরিবের মানুষের থেকে পার্টি কতটা বিচ্ছিন্ন।
এবারের লোকসভা ভোটের ফল পর্যালোচনা রিপোর্টেও পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি গরিব মানুষের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনবিচ্ছিন্নতার কথা মেনে নিয়ে পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, জনগণ সরে যায়নি, আমরাই বরং সরে এসেছি। আমাদেরই মানুষের কাছে যেতে হবে।
সেই বিচ্ছিন্নতা এতটাই বিভ্রান্তিকর যে বাংলার নেতারা না মানলেও দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলির কারণে তৃণমূল ইতিবাচক ভোট পেয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, পার্টির বহু ইউনিট এবং কর্মীদের মুখে এই সব প্রকল্পকে ‘ভিক্ষা’, ‘ঘুষ’ বলে উপহাস শোনা গিয়েছে। এরফলেও গরিব মানুষ দলের কাছ থেকে সরে গিয়েছে।
সেই রিপোর্ট পুনঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়লে বোঝা যায়, চলমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চলার সঠিক পথ অনুসন্ধানে বাংলার পার্টি ব্যর্থ। কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, বাংলার বাস্তবতা অনুযায়ী বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করাই বামপন্থীদের কর্মসূচি ছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতিকেও এর সঙ্গে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন ছিল। যেহেতু লোকসভা ভোট, তাই জরুরি ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও ধারালো করা। কিন্তু নিচুতলার প্রচারে তা প্রতিফলিত হয়নি। নিচুতলায় প্রচারে মোদীর তুলনায় মমতাকে আক্রমণই প্রাধান্য পেয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলার পার্টির এই দৃষ্টিভঙ্গি বা মানসিকতাকে ‘সমস্যা’ বলে উল্লেখ করে বলেছে, ২০২১ থেকে এই প্রবণতা চলছে।
আসলে সাম্প্রদায়িকতার বিপদ নিয়ে সিপিএম মুখে যত কথা বলে মাঠে-ময়দানের লড়াইয়ে, নির্বাচনী প্রচারে তার প্রতিফলন নেই। ফলে প্রতিবারই তাদের ভুলের ব্যাখ্যা দিয়ে যেতে হচ্ছে।
গত বিধানসভা ভোটের পর ‘নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের কাজ’ শীর্ষক আলোচনায় তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছিলেন, ‘বিজেপি ও তৃণমূল নিয়ে পার্টির অবস্থান, কিছু স্লোগান নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। পার্টির কর্মসূচিগত বোঝাপড়া হল, বিজেপি আর কোনও রাজনৈতিক দলই এক না। কারণ বিজেপিকে পরিচালনা করে ফ্যাসিবাদী আরএসএস। কিন্তু নির্বাচনের সময় কোথাও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যে তৃণমূল ও বিজেপি সমান। বিজেমূল জাতীয় স্লোগান ব্যবহার, বিজেপি-তৃণমূল মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ-এর মতো স্লোগান বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। আমাদের পার্টির কর্মসূচিগত বোঝাপড়াতেই পরিষ্কার, বিজেপি আর তৃণমূল কখনোই সমান নয়।’ পার্টির এই উপর্যুপরি ভুল স্বীকার নিয়ে সিপিএম অবশ্য দাবি করতেই পারে, ‘আমরা ভুল করি, ভুল স্বীকার করি।’
জ্যোতিবাবুর প্রসঙ্গে ফিরে যাই। ২০০০ সালের মাঝামাঝি কোনও এক দিন। অটল বিহারী বাজপেয়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, সেদিন কলকাতায়। উঠেছেন রাজভবনে। সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছেন জ্যোতি বসু। বাজপেয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে জ্যোতিবাবু দলের একটি জনসভায় হাজির হন। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কেন ওঁর পার্টিকে অসভ্য, বর্বর বলি। আমি ওঁকে বললাম, আপনাকে তো বলিনি। আপনার দলকে বলেছি। এছাড়া আর কী বলতে পারি বলুন? যারা একটা প্রাচীন ইমারত (বাবরি মসজিদ) ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে ইতিহাসকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের আর কী বলা যায়।’
আজ সেই জ্যোতিবাবুর পার্টির বিরুদ্ধে বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদীদের প্রতি যথেষ্ট আক্রমণাত্মক না হওয়ার অভিযোগ এখন আর বিরোধী দল কিংবা সংবাদমাধ্যমের অপ-প্রচার নয়, খোদ পার্টির অন্দরেই সেই অভিযোগ উঠেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সীমাহীন দুর্নীতিকে ভয়ঙ্কর বিপদ মেনে নিয়েও বলা দরকার সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই তাতে লঘু করা চলে না।
লোকসভা ভোটের পর সিপিএম দলের রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠক ডেকেছে। আমি জানি না, দলের হাল সম্পর্কে কোন কথাটা তাদের জানতে, বুঝতে বাকি। বর্ধিত অধিবেশনের পর পার্টি ব্যস্ত হয়ে পড়বে সাংগঠনিক সম্মেলনে। আসবে নতুন নেতৃত্ব। আমার মনে হয়, বর্তমান সিপিএমের একাধিক সমস্যার একটি হল সময়ের ডাকে আসল সমস্যা নিয়ে পথে নামতে না পারা। লোকসভা ভোটের মাঝে প্রধানমন্ত্রী যখন আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক বাঁধিয়ে দিলেন, মাছ-ভাতের রাজ্য বাংলায় সিপিএম চুপ করে থাকল, বাজিমাৎ করে দিল তৃণমূল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় পুলিশ যখন রে রে করে বুলডোজার নিয়ে পথে নেমে পড়ল, তখনও এই দিন আনি দিন খাই মানুষের পাশে সিপিএমকে দেখা গেল না। রাজ্য সম্পাদক-সহ প্রথম সারির বহু নেতারা তখন দিল্লি ছুটলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে।
আসন্ন পার্টি সম্মেলনে আবারও হয়তো পদ নিয়ে বিবাদে মাঝরাতে লড়াই ভোটাভুটিতে গড়াবে। আসলে, সিপিএমের এই প্রজন্মের নেতারা যাঁরা ৩৪ বছর ক্ষমতাসীন পার্টির ছত্রছায়ায় রাজনীতি করেছেন, তাঁদের এটা উপলব্ধি করা কঠিন, পার্টির নেতা হওয়া সহজ, জনগণের নেতা হওয়া কঠিন। জ্যোতিবাবু ছিলেন কতিপয় ব্যতিক্রমদের অন্যতম।