
শেষ আপডেট: 6 November 2020 18:30
চিন ইতিমধ্যেই আরও ৯টি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ পাঠিয়েছে মহাকাশে। তবে ভারতের পরিকল্পনা আরও বড়। ইসরো জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে আরও সাত হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই। এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলি আকারে ছোট, ওজনে হাল্কা। তবে এর কার্যক্ষমতা বিশাল। সীমান্ত পাহারা দেওয়া তো বটেই, এই স্যাটেলাইটগুলির হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা শত্রুদের গোপন ডেরার খোঁজও দিতে পারবে অনায়াসেই। বিশেষত চিন ও পাক সীমান্তে শত্রু সেনার বিন্যাসের খবর পাঠাবে গ্রাউন্ড স্টেশনে। দেশের সুরক্ষার জন্য যা অন্যতম বড় হাতিয়ার হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইসরোর সবচেয়ে বড় রকেট হল জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি)-এফ১০।রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, চিন, জাপানের পর মহাকাশে এই সর্বাধুনিক ক্রায়োজেনিক রকেট পাঠিয়েছে ইসরো। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে জিস্যাট সিরিজের নজরদারি উপগ্রহ জিস্যাট-১ মহাকাশে পাঠাতে এই রকেট ব্যবহার করে চমকে দিয়েছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
২০১২ সাল থেকে ন্যানো স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে শুরু করেছে ইসরো। এই জাতীয় কৃত্রিম উপগ্রহের ওজন কম এবং খুব সহজেই এদের উড়িয়ে নিয়ে লোয়ার আর্থ অরবিট বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষে বসানো যায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক ন্যানোস্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এই স্যাটেলাইট যেমন আবহাওয়ার খবর দেয় তেমনি দেশের প্রতিরক্ষার কাজেও এদের লাগানো যায়।
গত বছর ডিসেম্বরে ইসরোর ‘মেঘনাদ’ রিস্যাট-২বিআর১ উপগ্রহকে মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষে বসানো হয়েছে। ৬২৮ কিলোগ্রাম ওজনের সেই উপগ্রহকে মহাকাশে নিয়ে গেছে পিএসএলভি-সি৪৮। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের মায়া কাটিয়ে ৫৭৬ কিলোমিটার কক্ষপথে রিস্যাট-২বিআর১-কে বসিয়ে দিয়েছে ইসরোর রকেট। রিস্যাট-২বিআর১ কৃত্রিম উপগ্রহকে বলা হচ্ছে মহাকাশে ভারতের গোপন চোখ। নির্ভুল ভাবে শত্রুশিবিরের উপর নজরদারি চালাতেই পাঠানো হয়েছে এই নজরদারি উপগ্রহকে। রিস্যাট সিরিজের এই অত্যাধুনিক উপগ্রহের আগে জিস্যাট সিরিজের অনেক উপগ্রহকেই মহাকাশে পাঠিয়েছে ইসরো। এর আগে ভারতীয় নৌ বাহিনীকে সাহয্যের জন্য ২০১৩ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল জিস্যাট-৭ স্যাটেলাইটটিকে। যাকে সেনা বাহিনীতে রুক্মিনী নামেও ডাকা হয়ে থাকে। ভারত মহাসাগরে কড়া নজরদারি চালায় এই উপগ্রহকে, শত্রু জাহাজের গতিবিধি টের পেলেই সেই বার্তা পাঠায় গ্রাউন্ড স্টেশনে।