দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার কবে মহাকাশে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান ২? তামাম ভারতবাসীর প্রশ্ন এখন এটাই।
ঠিক কবে ফের ভারতের মাটি ছেড়ে চাঁদে রওনা দেবে চন্দ্রযান ২ সেই নিয়ে অবশ্য কানাঘুষো চলছে চতুর্দিকেই। ইসরো অবশ্য বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, রকেটের ত্রুটি সারিয়ে, খোলনলচে বদলে চন্দ্রযানকে তার পিঠে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠাতে সময় লাগবে বেশ কিছুদিন। সেই সম্ভাব্য সময়টা হয় অগস্ট, না হলে সেপ্টেম্বর। তার আগে নয় কিছুতেই। সম্প্রতি ইসরো জানিয়েছে, আর দেরি করতে চায় না তারা। পরবর্তী উইনডো মাফিক আগামী ২১ জুলাই রবিবার দুপুরের দিকে অথবা সোমবার ২২ জুলাই ভোররাতে সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে চাঁদের দিকে রওনা দিতে পারে চন্দ্রযান ২।
বিরাট উদ্যোগ-আয়োজন সত্ত্বেও গত ১৫ জুলাই থমকে গিয়েছিল চন্দ্রযান ২-এর উৎক্ষেপণ। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, গলদটা উৎক্ষেপণের সময়কার ত্রুটি নয়, বরং মূল সমস্যা ছিল মহাকাশযানের বাহক সর্বাধুনিক জিএসএলভি মার্ক থ্রি রকেটের মধ্যেই। এর ক্রায়োজেনিক স্টেজে। সমস্ত জ্বালানি বার করে সেই ত্রুটি সারিয়ে রকেটকে প্রস্তুত করতে সময় লাগবে বলেই জানিয়েছিলেন ইসরো কর্তারা। তার উপর ছিল, সঠিক সময় অর্থাৎ উইনডোর অপেক্ষা।
মহাকাশবিজ্ঞানীদের কথায়, চাঁদে এক দিন হয় পৃথিবীর ২৮ দিনের হিসেবে। অর্থাৎ নিজের কক্ষপথে লাট্টুর মতো ঘুরপাক খেতে চাঁদ সময় নেয় পৃথিবীর ২৮টি দিন। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতেও চাঁদ ওই একই সময় নেয়। এই ২৮ দিন সময়ের মধ্যে চাঁদের কোনও একটি এলাকায় সূর্যের আলো থাকে ১৪ দিন ধরে। পরের ১৪ দিন থাকে অন্ধকার। ইসরোর ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভারের যেগুলির চাঁদে পিঠে নামার কথা, তারা কাজ করে সৌরশক্তিতে। আর পৃথিবীর মাটি ছাড়ালে চাঁদে নামতে চন্দ্রযান ২-এর সময় লাগত ৫৩-৫৪ দিন। ৬ সেপ্টেম্বর রাতে পৌঁছলে ৭ সেপ্টেম্বর সূর্যের আলো ফোটার সময় থেকেই ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞান কাজ করতে পারত। যে সময়টা চাঁদের ওই নির্দিষ্ট পিঠে থাকত সূর্যের আলো। টানা ১৪ দিন ধরে কাজ করতে পারত ল্য়ান্ডার ও রোভার। সেই হিসেব কষেই ১৫ জুলাই সময়টাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের একাংশ দাবি করেছিল, এই হিসেব মেনে চললে, আগামী অগস্ট বা সেপ্টেম্বরের আগে কিছুতেই যাত্রা করতে পারবে না চন্দ্রযান ২। তবে সম্প্রতি সূত্র বলছে, ২১ জুলাই রবিবার দুপুরের মধ্যেই চন্দ্রযানকে চাঁদে রওনা করে দিতে চায় ইসরো। সময় কিছুটা পিছোলেও সেটা হবে সোমবার সকাল। কারণ চলতি মাসের হিসেবে ৩১ জুলাই শেষ উইনডোর অপেক্ষা করতে গিয়ে কোনও কারণে উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হলে, বিপুল টাকা ও পরিশ্রমের সবটাই জলে যাবে। সে ক্ষেত্রেও চাঁদের ১৪টি দিনকে গবেষণার কাজে লাগানোর সুযোগ হারাবে ইসরো।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-national-after-chandrayaan-2-scare-a-look-at-previous-failed-isro-launches/