দ্য ওয়াল ব্যুরো: রকেট তো নয় যেন পেল্লায় এক বাড়ি। উচ্চতায় ১৬ তলা বাড়ির সমান। ওজনে ৪ লক্ষ ২০ হাজার ৩০০ কিলোগ্রাম। ইসরোর এই অস্ত্রের নাম জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি)-এফ১০। রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, চিন, জাপানের পর মহাকাশে এই সর্বাধুনিক ক্রায়োজেনিক রকেট পাঠাবে ইসরো। এই জিএসএলভি-এফ১০ রকেটের পিঠে চাপিয়েই পৃথিবীর কক্ষে পাঠানো হবে জিস্যাট সিরিজের নজরদারি উপগ্রহ জিস্যাট-১কে।
অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকদিনের। আগামী ৫ মার্চ ভারতীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিট নাগাদ শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে হুশ করে মহাকাশে উড়ে যাবে জিস্যাট সিরিজের নজরদারি উপগ্রহ জিস্যাট-১। জিস্যাট-৩০ ভারত থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়নি। ৩৩৫৭ কিলোগ্রাম ওজনের জিস্যাট-৩০-কে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলবর্তী উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ফ্রেঞ্চ গিনি থেকে আরিয়ানা-৫ লঞ্চ ভেহিকলের (ভিএ-২৫১) পিঠে চাপিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল। তাই জিস্যাট-১-এর উৎক্ষেপণ নিয়ে ইসরোর অন্দরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ভারী এই নজরদারি উপগ্রহকে পৃথিবীর কক্ষে বয়ে নিয়ে যেতে ইসরোর মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে এই জিএসএলভি-এফ১০।
জিস্যাট-১
চন্দ্রযানের পরে মহাকাশ অভিযান নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক এবং আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা ইসরো। কুড়ি সালেই ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার একগুচ্ছ পরিকল্পনা আছে ইসরোর। সূর্য-অভিযান ‘আদিত্য-এল ১’ এর আগে বেশ কিছু কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাবে ইসরো। সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ২২৬৮ কিলোগ্রাম ওজনের এই জিস্যাট-১ স্যাটেলাইটের পরিধি ৪ মিটার। কক্ষে চুপচাপ বসে পৃথিবীর উপরে নজরদারি চালানোই এর কাজ। আবহাওয়ার খবর তো বটেই, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে রেডিও যোগাযোগ, সবকিছুই তদারকি করবে ইসরোর জিস্যাট-১।


২২৬৮ কিলোগ্রাম ওজনের বোঝা পিঠে চাপিয়ে পৃথিবীর জিও-সিনক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার মহান দায়িত্ব পড়েছে জিএসএলভি-এফ১০ রকেটের উপর। ১৯৯০ সাল থেকে ইসরোর অন্দরে আত্মপ্রকাশ করেছে জিওসিনক্রোনাস লঞ্চ ভেহিকল। ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৩টি কৃত্রিম উপগ্রহকে জিএসএলভি রকেটের পিঠে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠিয়েছে ইসরো।

২০০১ সালে ‘জিএসএলভি-মার্ক-টু’ রকেট মহাকাশে পাঠিয়েছিল ইসরো। ‘জিএসএলভি-মার্ক-থ্রি’ রকেট ইসরোর পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের (পিএসএলভি) চেয়েও বেশি ওজন বইবার ক্ষমতা রাখে। জিএসএলভি-এফ১০ রকেটও সেই গোত্রেরই। তিন স্টেজের এই রকেটে রয়েছে কঠিন, তরল ও ক্রায়োজনিক স্তর। এই ধরনের ক্রায়োজেনিক রকেট ইঞ্জিন চলে তরল হাইড্রোজেন আর তরল অক্সিজেনে। যা রাখা থাকে শূন্যের নীচে ২৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। সেই জ্বালানির ডানায় ভর দিয়েই মহাকাশে পাড়ি জমাতে পারে ওই ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন। আর যে কোনও ভারী উপগ্রহকে পৌঁছে দিতে পারে পৃথিবীর জিও-সিনক্রোনাস কক্ষপথে।