
শেষ আপডেট: 21 January 2020 18:30

ব্যোমমিত্র—গগনযানে যাবে ইসরোর এই মহিলা-রোবট
হাফ-হিউম্যানয়েড (Half-Humanoid), মাথা থেকে কোমর অবধি আছে এই রোবটের, দু’হাতও আছে, কিন্তু পা নেই। যে কোনও দিকে শরীর বাঁকাতে পারে সে, সব কাজ করতে পারে হাত দিয়ে, কথাও বলতে পারে আবার বুদ্ধি খাটিয়ে গবেষণাও করতে পারে। ইসরোর বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মহিলা-রোবট ব্যোমমিত্র একেবারে রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী। মানুষের অনুকরণও করতে পারবে সে। মহাকাশে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে গগনযানের ভেতর কী কী বদল হচ্ছে তার নির্ভুল তথ্য সে পাঠাবে ইসরোর গ্রাউন্ড কম্যান্ডে। কোনও বিপদ হাজির হলে সে বার্তাও পাঠাতে পারবে তুরন্ত। ইসরোর গ্রাউন্ড স্টেশনে নভশ্চর ও মহাকাশবিজ্ঞানীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলবে এই মহিলা-রোবট। প্রতি মুহূর্তের খবর জানাবে নভশ্চরদের।
https://twitter.com/nagarjund/status/1219880444130361345
[caption id="attachment_179808" align="aligncenter" width="600"]
গগনযানের ইলাস্ট্রেশন[/caption]
ইসরোর বিজ্ঞানী শ্যাম দয়ালের কথায়, ‘‘গগনযানে মানুষ পাঠানোর আগে রোবট পাঠানোরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জন্য তৈরি করা হয়েছে মহিলা অবয়বের একটি রোবট। মহাকাশে পৌঁছে কী কী করতে হবে তার সবটাই শেখানো পড়ানো হয়েছে এই রোবটকে।’’
নভশ্চরদের স্পেস-স্যুট[/caption]
ইসরো চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছেন, ‘‘আমাদের হিউম্যানয়েড পুরোপুরি তৈরি। ম্যানড-মিশনের জন্য অনেক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দরকার হয়। তাই মানুষ পাঠানোর আগে রোবট দিয়েই প্রাথমিক পরীক্ষা চালাতে চাই আমরা।’’ তিনি আরও বলেন, এই টেস্ট-ফ্লাইট সফল হলে, আগামী দিনে আমরা প্রমাণ করতে পারব নভশ্চরদের মহাকাশে পাঠিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।
ইসরোর ম্যানড-মিশনের জন্য গত বছর থেকেই নভশ্চরদের বাছাই পর্ব চলছিল। ৬০ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রথম দফায় বায়ুসেনার ১২ জন অফিসারকে বেছে নিয়েছিল ইসরোর অ্যাডভাইজরি কমিটি। লেভেল-১ স্ক্রিনিংয়ে তাঁরা সকলেই পাশ করেন। চূড়ান্তপর্বে তাঁদের মধ্যে থেকে চারজন পাইলটকে গগনযানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল।
[caption id="attachment_179812" align="aligncenter" width="600"]
গগনযানে ব্যবহার করা হতে পারে এই ক্যাপসুল[/caption]
মহাকাশ গবেষণায় আরও উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার। গগনযানের মহড়ার জন্য ইসরোকে বিশেষভাবে সাহায্য করবে রাশিয়ার মহাকাশ গবষণা সংস্থা রসকসমস। ইসরোর চেয়ারম্যান শিবন জানিয়েছেন, চার নভশ্চরের শারীরিক পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে হয়েছে আইআইএমে। এর পরের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা চলবে রাশিয়ায়। আগামী ১১ মাসের জন্য তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে পাশিয়ান স্পেস এজেন্সিতে। নভশ্চরদের সঙ্গে থাকবেন বায়ুসেনার ডাক্তাররাও। নভশ্চরদের মেডিক্যাল টেস্টের সব রিপোর্টই তাঁরা পাঠিয়ে দেবেন ভারতে।
মস্কো ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে, মহাকাশ বিজ্ঞানের বাঁধাধরা ক্লাস নয়, হাতেকলমে ভারতীয় নভশ্চরদের প্রশিক্ষণ দিতে চলেছে তারা। রুশ মহাকাশযানে এক বা একাধিক ভারতীয় নভশ্চরকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর ‘রাশিয়ান অরবিট সেগমেন্ট’-এ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে গগনযানে ‘ব্যোমযাত্রা’র চাপ আগে থেকেই সামাল দিতে পারবেন ভারতীয় নভশ্চররা।