দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরে আইসিস জঙ্গি! এমনই দাবি করল জম্মু কাশ্মীর পুলিশ।
শুক্রবার দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে মারা যায় চার জঙ্গি। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানায় তারা আইসিস প্রভাবিত একটা স্থানীয় সংগঠনের সদস্য।
এদের মধ্যে ছিল ইসলামিক স্টেট অব জম্মু কাশ্মীরের প্রধান দাউদ সফিও।
কিন্তু কাশ্মীরে নাকি আইসিস নেই! মাত্র চার মাস আগে সংসদে দাঁড়িয়ে এমনই তো বলেছিলেন, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির। জানিয়েছিলেন, গত বছরের নভেম্বরে শ্রীনগরে একজন জঙ্গির এনকাউন্টার হওয়ার পর আইসিসের সমর্থনে কিছু স্লোগান শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এই ঘটনা ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে আইসিসের প্রভাবের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নেই আইসিসের সঙ্গে যোগ আছে এমন কোনও সন্দেহভাজন জঙ্গির খবরও।
অথচ ফেব্রুয়ারি মাসের সেই ঘোষণার চার মাস পরে আজ জম্মু কাশ্মীর পুলিশ আইসিসের নাম নিল। যখন মাত্র কয়েকদিন আগেই সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে পিডিপির সঙ্গে কাশ্মীরের জোট সরকার ভেঙে দিয়েছে পিডিপি।
পুলিশ জানায়, এই জঙ্গিরা অনন্তনাগের একটা বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় দুইপক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়।
নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে মারা যায় চার জঙ্গি। নিহত হন ওই বাড়ির মালিকও। তাঁর স্ত্রী আহত হয়েছেন।
কাশ্মীর পুলিশের প্রধান এস পি বৈদ জানিয়েছেন, কাশ্মীরে আইসিসের সরাসরি কোনও পরিকাঠামো নেই। ইন্টারনেটে আইসিসের কাগজপত্র পরেই প্রভাবিত হয়েছে এই জঙ্গিরা।
কিন্তু আইসিসের ওয়েবসাইটে এইবছরেই লেখা হয়েছিল যে তাঁদের ভারতীয় সংগঠন আনসার গাজওয়াতুল হিন্দের প্রধান হলেন কাশ্মীরি জাকির মুসা।
স্বভাবতই কাশ্মীরে আইসিস প্রভাবিত জঙ্গিদের খোঁজ পাওয়ার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নয়াদিল্লির রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি এতদিন নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক?