আল কায়েদার কাশ্মীর নিয়ে বিবৃতির পিছনে আইএসআই, জানালেন গোয়েন্দারা
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার মার্কিন সেনা আফগানিস্তান (Afganistan) ছাড়ার পরে একটি বিবৃতি দেয় জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা (Al Qaeda)। আফগান যুদ্ধে জয়লাভের জন্য তালিবানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বিবৃতিতে বলা হয়, এবার বিশ্ব জুড়ে জেহাদ ছড়িয়ে দিতে হব
শেষ আপডেট: 2 September 2021 10:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার মার্কিন সেনা আফগানিস্তান (Afganistan) ছাড়ার পরে একটি বিবৃতি দেয় জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা (Al Qaeda)। আফগান যুদ্ধে জয়লাভের জন্য তালিবানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বিবৃতিতে বলা হয়, এবার বিশ্ব জুড়ে জেহাদ ছড়িয়ে দিতে হবে। মুক্ত করতে হবে কাশ্মীরকেও। বৃহস্পতিবার ভারত সরকার জানাল, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পরামর্শেই কাশ্মীরে জেহাদ (Jehad) চালানোর কথা বলেছে আল কায়েদা। রাশিয়ার চেচনিয়া এবং চিনের শিনজিয়াং প্রদেশেও ইসলামি জঙ্গিরা সক্রিয়। কিন্তু যেহেতু ওই দুই দেশ তালিবানের বন্ধু তাই তাদের জমিতে জেহাদ চালানোর কথা বলা হয়নি।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, "আল কায়েদা যেভাবে বিশ্ব জুড়ে জেহাদ চালানোর আহ্বান জানিয়েছে, তা উদ্বেগের বিষয়। তাদের বিবৃতিতে কাশ্মীরের কথা আছে। তালিবান আগে কখনও কাশ্মীর নিয়ে মাথা ঘামায়নি। আল কায়েদার ওই বিবৃতির পিছনে আছে আইএসআই।" সরকারের মতে, ওই বিবৃতিতে লস্কর ই তৈবা এবং জয়েশ ই মহম্মদের মতো পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি উৎসাহিত হবে।
ভারত সরকারের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেন, আল কায়েদার বিবৃতি এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু একটা কথা বলা যায়, তারা বিশ্ব জুড়ে মুসলিমদের জঙ্গি মতাদর্শে দীক্ষিত করতে চাইছে। তা মানবতার পক্ষে বিপজ্জনক। পাকিস্তান সম্পর্কে তিনি বলেন, আল কায়েদার প্রধান নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরিকে তারাই নিয়ন্ত্রণ করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখন যিনি তালিবানের শীর্ষ নেতা, সেই হাইবাতুল্লা আখুন্দজাদাও একসময় পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন।
সরকার জানতে পেরেছে, আল কায়েদা সমর্থকদের বেশিরভাগের আত্মীয়স্বজন ইরানে থাকেন। তালিবানের বিজয়ের পরে তাঁদের অনেকে এখন আফগানিস্তানে ফিরছেন।
তালিবান জানিয়েছে, ন'য়ের দশকে ক্ষমতায় এসে তারা যেসব নিয়ম-কানুন চালু করেছিল, এবার তা করবে না। বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি তারা কতদূর রক্ষা করে, সেদিকে নজর রাখছে ভারত। আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা দখলের কোনও প্রভাব কাশ্মীর উপত্যকায় পড়ছে কিনা, সেদিকেও লক্ষ রাখা হচ্ছে। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে। সীমান্তের ওপারে যেসব লঞ্চপ্যাড থেকে জঙ্গিরা ভারতে ঢোকে, সেগুলি ফের সক্রিয় করে তোলা হচ্ছে।
তালিবান নিজে কখনও কাশ্মীর নিয়ে আগ্রহ না দেখালেও কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি অনেক সময় আফগানিস্তানে ঘাঁটি বানিয়েছে। তালিবানের থেকে প্রশিক্ষণও নিয়েছে। সেই গোষ্ঠীগুলির মধ্যে আছে হরকত উল আনসার ও জয়েশ ই মহম্মদ।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'