
নওসাদ সিদ্দিকী
শেষ আপডেট: 23 November 2024 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের উপনির্বাচনে ৬-এ ৬ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কোনও কেন্দ্রেই বিরোধী দল শাসক শিবিরের ধারে-কাছে পৌঁছতে পারেনি। যে ৬টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল তার মধ্যে হাড়োয়া কেন্দ্রের ফল নিয়ে উচ্ছ্বসিত ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ। না, এই আসন জিততে পারেনি নওসাদের দল। তবে তাঁরা হারিয়ে দিয়েছে বিজেপি, কংগ্রেসকে।
হাড়োয়ায় বামফ্রন্ট সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী ছিলেন আইনজীবী পিয়ারুল ইসলাম। তৃণমূল প্রার্থীর পরই ২৫ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে তিনি। যদি ভোট শতাংশের কথা বলা যায় তবে দেখা যাবে, লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় হাড়োয়া কেন্দ্রে আইএসএফ-এর ভোট কমেছে ২.৫ শতাংশ আর বিজেপির ভোট কমেছে ৮.৩ শতাংশ! অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ।
এই ফল নিয়ে আইএসএফ-এর তরফে বলা হয়েছে, তাঁদের মনে হয়েছে তাঁদের জনসংযোগ আরও বাড়াতে হবে এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের দুর্বলতা সংশোধন করে শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। তবে উপনির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকেই বিঁধেছেন নওসাদরা। তাঁদের সাফ কথা, ''তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে এই রাজ্যে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়। সুষ্ঠুভাবে ভোট, তৃণমূলের রাজত্বে অকল্পনীয়। সম্পূর্ণ দুর্নীতিতে ডুবে থাকা একটি দল স্রেফ গা-জোয়ারি করে জিতে চলেছে। গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি অশনি সঙ্কেত।''
বিবৃতি দিয়ে আইএসএফ-এর আরও অভিযোগ, বহু বুথে বুথদখল করে ছাপ্পা চালিয়েছে শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আগেই তাঁরা এই কেন্দ্রের ৩৭টির বেশি বুথে আইএসএফ পুনর্নিবাচনের দাবি জানিয়েছিল। এই বুথগুলিতে দলের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনকেও দুষেছিল তাঁরা।
উপনির্বাচনের ফলাফলের পর আগামী দিনের কাজ নিয়ে নিয়ে এখন থেকেই ব্যস্ত হয়ে গেছে আইএসএফ। তাঁরা বক্তব্য, এই দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই জারি থাকবে। বিজেপিকেও খোঁচা দিয়ে মন্তব্য, বিজেপির মতো নির্বাচনী বন্ড এবং কর্পোরেটদের কালো টাকা দিয়ে তাঁরা নির্বাচনে নামে না।