কে কোথায় মসজিদ বা মন্দির তৈরি করবেন, তা রাজনৈতিক জোটের শর্ত হতে পারে না। এমন কোনও বিষয় ভবিষ্যতেও সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেই তাঁর মত।

নওশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 3 February 2026 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মসজিদ বা মন্দির তৈরি করা নিয়ে রাজনৈতিক শুদ্ধতার প্রশ্নে সরব হলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক (ISF) নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)। তাঁর বক্তব্য, কে কোথায় মসজিদ বা মন্দির তৈরি করবেন, তা রাজনৈতিক জোটের শর্ত হতে পারে না। এমন কোনও বিষয় ভবিষ্যতেও সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেই তাঁর মত।
নওশাদের কথায়, বামপন্থী শিবিরের অনেকেই নাস্তিকতায় বিশ্বাসী এবং ধর্মাচরণ থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু কংগ্রেসকে যদি কোনও জোটে রাখা হয়, তা হলে প্রশ্ন উঠতে পারে— কংগ্রেসের নেতারা কি কখনও মন্দির বা মসজিদ তৈরি করেননি? ভবিষ্যতে তাঁরা কি এমন কিছু করতে পারবেন না? নওশাদের যুক্তি, কোনও ব্যক্তি বা দলের তরফে ধর্মীয় স্থাপনা গড়ে তোলা কি আদৌ সংবিধানবিরোধী কাজ?
এই প্রসঙ্গেই তিনি উল্লেখ করেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) নাম। নওশাদের কথায়, হুমায়ুন কবীরের মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে তিনি বলেন, এই বিষয়ে তিনি হুমায়ুনকে 'জাস্টিফাই' করছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, কেউ মসজিদ বা মন্দির তৈরি করলে তার সঙ্গে জোট করা যাবে না— এমন দাবি যুক্তিসঙ্গত নয়।
হুমায়ুন কবীরের অতীত মন্তব্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন নওশাদ। তিনি বলেন, হুমায়ুনের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে তিনি এবং তাঁর দল সম্পূর্ণ একমত নন। সেই কারণেই আগেই জানানো হয়েছিল, ওই ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে কোনও আলোচনা সম্ভব নয়। নওশাদের দাবি, হুমায়ুন তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন। এই প্রেক্ষাপটে নওশাদ স্পষ্ট করে জানান, যেহেতু হুমায়ুন নিজের অবস্থান সংশোধন করেছেন, তাই এখন আলোচনা হতে পারে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কংগ্রেস-বামেদের (CPIM-Congress) সঙ্গে তাহলে আইএসএফ-এর জোট কোথায় দাঁড়িয়ে?
নওশাদের দাবি, বামেদের সঙ্গে জোট সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসুকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিন্তা-ভাবনা করে যদি বাম শিবির জোটের সিদ্ধান্ত নেয়, আইএসএফ-ও সঙ্গে থাকবে।
একই সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গেও জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান নওশাদ। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রদেশ কংগ্রেস একক ভাবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, এমনটা নয়। জোট সংক্রান্ত বিষয়টি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির কাছেও লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। নওশাদের কথায়, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই।