
শেখ শাহজাহান।
শেষ আপডেট: 21 February 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক বছর ধরে জেলে আটকে রয়েছেন সন্দেশখালির (sandeshkhali) ‘বাদশা’ শেখ শাহজাহান (Sk Shahjahan)। জামিন পেতে মরিয়া শাহজাহান সম্প্রতি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আর্জি জানিয়েছেন। আগামী সোমবার ওই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
তারই মধ্যে ২০১৯ সালের একটি খুনের মামলায় নাম জড়াল শেখ শাজাহানের। আদালত সূত্রের খবর, সন্দেশখালিতে ২০১৯ সালে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ, শেখ শাজাহানের মতো দুষ্কৃতীরা অভিযুক্ত থাকায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। ওই মামলায় সিবিআই তদন্তের আর্জি জানান আবেদনকারী। এ বিষয়ে রাজ্য এবং মামলাকারীদের কাছে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য চেয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। তারই ভিত্তিতে আগামী সপ্তাহে রায় দেবেন বিচারপতি।
অনেকের মতে, সেক্ষেত্রে এই মামলায় আদালত নতুন করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলে শাহজাহানের চাপ আরও বাড়তে পারে।
বস্তুত, অনুব্রত মণ্ডল, মানিক ভট্টাচার্য, জীবনকৃষ্ণ সাহা, কুন্তল ঘোষ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে গত বছর জামিনে মুক্ত হয়েছেন একাধিক তৃণমূল নেতা। কিন্তু প্রায় ১ বছর ধরে জেলে আটকে থাকার পরও কেন তার জামিন হচ্ছে না, এই অভিযোগে সম্প্রতি নিজের আইনজীবীই বদলে ফেলেছিলেন সন্দেশখালির ‘বাদশা’ শেখ শাহজাহান। আদালতে জামিনের আর্জিও জানিয়েছেন। তারই মধ্যে পুরনো মামলায় নাম জড়ানোয় অস্বস্তিতে শাহজাহান।
গত বছরের ৫ জানুয়ারি। রেশন দুর্নীতির তদন্তে ওই দিন শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তারপর থেকে টানা ৫৫ দিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন শাহজাহান। কয়েক দিন পরে অবশ্য শাহজাহানেরই বিরুদ্ধেই ফুঁসে ওঠেন এলাকার একাংশ মহিলা।
রাতের অন্ধকারে নারী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। যার জেরে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি শাহজাহানকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তবে গ্রেফতারের পরও আদালত চত্বরে বাদশাসুলভ আচরণে দেখা গিয়েছিল সন্দেশখালির বেতাজ বাদশাকে। যা নিয়ে সে সময় বিস্তর বিতর্কও হয়।
পরে আদালতের নির্দেশে শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই থেকে প্রায় এক বছর জেলবন্দি রয়েছেন সন্দেশখালির বাদশা।