দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সেনাপ্রধানের মৃত্যুর পরে একেবারে উৎসবে মেতেছে ইরাক, এমনই এক ভিডিও প্রকাশ করল মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন বিদেশসচিব সেদেশের হিসাবে বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও টুইট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ইরানের সেনাপ্রধান কাসেম সোলেমানিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করায় পথে নেমে ইরাকিরা নৃত্য করছেন।
পম্পেও লিখেছেন, স্বাধীনতার আনন্দে নাচছেন ইরাকিরা, জেনারেল সোলেমানি না থাকার আনন্দে তাঁরা নৃত্য করছেন। তাঁদের হাতে ধরা ছিল ইরাকি পতাকা।
ইতিমধ্যেই পেন্টাগন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রবাসে মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের প্রধানকে হত্যার নির্দেশ দেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, বিস্তীর্ণ এলাকায় মার্কিন কূটনীতিক ও ইরাকে মার্কিন সেনাকর্মীদের হত্যার নেপথ্যে ছিলেন জেনারেল সোলেমানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগী দেশগুলির শত শত সেনাকর্মীর মৃত্যু ও হাজার হাজার সেনাকর্মী আহত হওয়ার জন্য সোলেমানিকে দায়ী করা হয়েছে।
https://twitter.com/SecPompeo/status/1212955403077767168
পম্পেও অবশ্য জানাননি যে কোথা থেকে তিনি এই ভিডিওটি পেয়েছেন।
তিনি নিজে ইরকিদের এই আনন্দের ছবি প্রকাশ করলেও একটি টুইটে আবার লিখেছেন যে ইরাকের মুখপত্রের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তিনি এই হামলার নিন্দা করেছেন।
ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন হামলায় ইরানের সেনাপ্রধান সোলেমানির পাশাপাশি ইরাকের হাসিদ-আল-সাবি নামে আধাসামরিক বাহিনীর উপপ্রধানেরও মৃত্যু হয়। কট্টরপন্থী হাসেদ গোষ্ঠীর উপরে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে গত সপ্তাহেই ইরানপন্থীরা মার্কিন দূতাবাস অবরুদ্ধ করে।

ইরাকে কর্মরত এক মার্কিন ঠিকাদারের মৃত্যুর জেরেই হামলা করে ওয়াশিংটন। টুইট করে বাগদাদকে তিনি বলেছেন মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে। ইরাকে ২৭ ডিসেম্বর যে হামলায় ওই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়, সেই হামলা-সহ বিগত কয়েক মাসে চালানো হামলার জন্য সোলেমানিকেই দায়ী করছে মার্কিন প্রশাসন।
শুক্রবার ভোরে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কনভয় বার হওয়া মাত্রই মার্কিন রকেট হামলায় মৃত্যু হয় কাসেম সোলেমানির৷ এই হামলায় মৃত্যু হয় ইরাকের আধাসেনার এক উচ্চপদস্থ অফিসার আবু মেহদি আল-মুহানদিস এবং বিমানবন্দরের প্রোটোকল অফিসার মহম্মদ রেদার।
বিমানবন্দর লক্ষ করে অন্তত চারটি রকেট নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গিয়েছে স্থানীয় সূত্রে। মার্কিন বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে বাগদাদ বিমানবন্দরে মোতায়েন হাশদ আশ-শাবির দু’টি গাড়ি লক্ষ করে রকেট হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনার পরেই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে আমেরিকার পতাকা পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরাকের আধাসামরিক বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, ইরান থেকে কিছু শীর্ষকর্তার ইরাকে আসার কথা ছিল এ দিন। সেই কারণেই বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেনা মোতায়েন করা হয়, সেখানে হাজির ছিলেন বিমানবন্দরের প্রোটোকল অফিসার মহম্মদ রেদাও। তিনি যখন ইরান এলিট গার্ড ফোর্সের প্রধান সোলেমানি ও মুহানদিসকে নিয়ে বিমানবন্দরে থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখনই তিনটি রকেট পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা সকলের মৃত্যু হয়।