
শেষ আপডেট: 23 November 2019 18:30

আমাল ও গাজি সালহের এই ছবি অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল

সেই ছবি এখনও বদলায়নি। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্করতম হয়ে উঠেছে। দুর্ভিক্ষ গ্রাস করেছে সিংহভাগ এলাকা। খাদ্য সঙ্কট তীব্র। আশি লক্ষ মানুষ আপৎকালীন খাদ্য সাহায্যের ভরসায় বেঁচে আছেন। দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সংখ্যা অচিরেই এক কোটি আশি লক্ষ অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার অর্ধেকে পৌঁছতে পারে। অনাহার, অপুষ্টিতে ভুগছে লক্ষ লক্ষ শিশু। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা কোটিতে পৌঁছে গেছে। কলেরার প্রকোপে জীবন বিপন্ন প্রায় ১১ লক্ষের।



হুথি বিদ্রোহীদের দাবি তারা জাতিগত বঞ্চণা, দুর্নীতি, সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সমস্ত সাম্রাজ্যবাদী চক্র ও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। ২০০৪ সালে এই বিদ্রোহ বিরাট আকার ধারন করে। ২০১১-র ‘আরব বসন্ত’র সময়ে ইয়েমেনে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আবেদ রাব্বো মনসুর হাদি। কিন্তু তাঁর ক’বছরের শাসনেই ইয়েমেন-এর শিয়ারা সরকারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিপীড়নের অভিযোগ তোলে।
২০১৪ সালে বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের তদানীন্তন রাজধানী দখল করে নিলে সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ইয়েমেনে বোমাবর্ষণ শুরু করে সৌদি আরবের বিমানবাহিনী। সঙ্গে যোগ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, জর্ডন-এর মতো বেশ কয়েকটি দেশের বায়ুসেনাও। এই হামলায় হাজার হাজার সাধারণ ইয়েমেনি নাগরিক মৃত্যুবরণ করে। ঘরহারা হন বহু মানুষ। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং যুদ্ধবিশেষজ্ঞদের মতে এই যুদ্ধেই মৃতের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়েছে। কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট তৈরি করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে। যুদ্ধর্লিষ্ট দেশে দেখা দিয়েছে চরম দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা।


যুদ্ধ, বারুদ, রক্ত—ইয়েমেনের রোজনামচা
শরীর দুমড়ে মুচড়ে গেছে কিন্তু সাহস হারায়নি ছোট্ট নোরান[/caption]
হুইলচেয়ারে বন্দি, হাত-পা বেঁকে গেছে, ঘাড় সোজা করে বসতেও পারে না। ১৩ বছরের নোরানের বাড়িতে আছড়ে পড়েছিল মিসাইল। শিরদাঁড়া মারাত্মকভাবে জখম হয়ে পঙ্গুত্ব গ্রাস করেছে ছোট্ট মেয়েটিকে। নোরানের একটি ভিডিও একসময় কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে। ফ্যাকাসে মুখে হাসির আলতো ছোঁয়া এনে মেয়েটি বলেছিল, “আর যুদ্ধ চাই না। আমরা বাঁচতে চাই। দু’বেলা পেট ভরে খেতে চাই। আবার স্কুলে যেতে চাই। এত আঘাত পেয়েছি এখন আর সোজা হয়ে বসতে পারি না।”
[caption id="attachment_161753" align="aligncenter" width="600"]
'আমরা বাঁচতে চাই, আবার স্কুলে যেতে চাই'[/caption]
ইয়েমেনের সব শিশুরই আকুতি “আমরা নিরপরাধ। আমাদের বাঁচতে দাও, একটু খেতে দাও। আর কতদিন যুদ্ধের ধ্বংসলীলা চালাবে তোমরা?”যতদিন যাবে আরও মৃত্যু হবে, পচাগলা গন্ধে ভরে উঠবে আকাশ-বাতাস। রোগ ছড়াবে মহামারীর মতো। আর কতদিন? এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় এখনও অজানা। একুশ শতাব্দীর ‘মানবতা’ এই নির্মম হত্যালীলা দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।