
শেষ আপডেট: 29 October 2020 18:30
সার্স মহামারীর ভয় দেখেছে তাইওয়ান, করোনা অতিমহামারীতে তাই সতর্কতা ছিল বেশি
২০০৩ সালে সার্স মহামারীর আতঙ্ক স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি তাইওয়ানের। তাই করোনা অতিমহামারীকে শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। রেহাই পাওয়ার উপায় খোঁজা হয়েছে। বার্ড ফ্লু ও এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণেও তাইওয়ানে প্রচুর মৃত্যু হয়েছিল। সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের খবর ছড়ানোর পর থেকেই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য প্রটোকল ও বিশেষজ্ঞের দল তৈরি হযে গিয়েছিল প্রথম থেকেই। হাত ধোওয়া ও মাস্ক পরার অভ্যাস শুরু করে দিয়েছিলেন বাসিন্দারা।
বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সীমান্ত, কোয়ারেন্টাইন শুরু হয়েছিল গোড়া থেকেই
জানুয়ারি থেকেই সীমান্তে কড়াকড়ি শুরু করেছিল তাইওয়ান। কোনও বিদেশি নাগরিককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দেশ থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতিও ছিল না। নিতান্তই দেশের কোনও নাগরিক বিদেশ থেকে ফিরলে তাঁকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সে সময় যাবতীয় টেস্ট ও কনট্যাক্ট ট্রেসিংও শুরু করে দিয়েছিল তাইওয়ানের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কোয়ারেন্টাইনের নিয়মের সঙ্গে যখন বিশ্বের অনেক দেশেরই পরিচিতি ছিল না, তখন থেকেই তাইওয়ান কোয়ারেন্টাইনের বিধি চালু করে দিয়েছিল। সে সঙ্গে ফেস-মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। স্থানীয় সংস্থাগুলো দ্রুতগতিতে ২ কোটির বেশি মাস্ক তৈরি করে প্রতি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল। বিদেশ থেকে কোনও মাস্ক আমদানি করা হয়নি।
কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়েও চমক দেখিয়েছিল তাইওয়ান। একজনের সংস্পর্শে আসা ২০-৩০ জনকে শনাক্ত করা হত কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ে। কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা হয়েছিল ঘরে ঘরে। তিন লক্ষের বেশি মানুষকে হোম-কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। নিয়ম ভাঙলেই মোটা টাকা জরিমানার নির্দেশ জারি করেছিল সরকার। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের নিয়ম চালু হয়েছিল শুরু থেকেই। কনটেইনমেন্ট জ়োন তৈরি করে সংক্রমণ রুখে দেওয়া হয়েছিল শুরু থেকেই। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার অব পলিসির ডিরেক্টর জ্যাসন ওয়াং বলেছেন, সীমান্তে কড়াকড়ি আর সাধারণ মানুষজনের নিয়মের মধ্যে থাকা, এই দুই কারণেই তাইওয়ানে সংক্রমণ বেশি জনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। সংক্রমণের হারও বিশ্বে সবচেয়ে কম।