পাশে 'বন্ধু' চিন, ফেব্রুয়ারিতেই কি ধূসর তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে পাকিস্তান
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালো তালিকা দূর, ধূসর তালিকা থেকেও কি বেরিয়ে যেতে পারে পাকিস্তান? সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না সাউথ ব্লক। সন্ত্রাসের অর্থ জোগানের উপরে নজরদারির আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএটিএফের বার্ষিক সম্মেলন ফেব্রুয়ারিতে। প্যারিসে ওই সম্মেলনে যা
শেষ আপডেট: 23 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালো তালিকা দূর, ধূসর তালিকা থেকেও কি বেরিয়ে যেতে পারে পাকিস্তান? সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না সাউথ ব্লক। সন্ত্রাসের অর্থ জোগানের উপরে নজরদারির আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএটিএফের বার্ষিক সম্মেলন ফেব্রুয়ারিতে। প্যারিসে ওই সম্মেলনে যাতে কালো তালিকায় না তোলা হয়, তার জন্য মরিয়া পাকিস্তান। তার উপর পাশে পেয়েছে তাদের সর্বকালীন শক্ত খুঁটি চিনকে। সূত্রের খবর, পশ্চিমের আরও কয়েকটি দেশের ভোটও নাকি পেতে পারে পাকিস্তান।
জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপের পর থেকে সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি—দুই দিক থেকেই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কার্যত মরিয়া ইসলামাবাদ। এফএটিএফে-এর প্যারিসের বৈঠকে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলেই তারা সবদিক থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়বে, এমনটাই আশা করেছিলেন সাউথ ব্লকের কর্তারা। তবে সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তার কারণ, ধূসর তালিকা থেকে বেরোতে গেলে ৩৯টি ভোটের মধ্যে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২টি ভোট। সূত্রের খবর, প্যারিসের ওই বৈঠকে পাকিস্তান পাশে পেতে চলেছে তার চিরকালীন ‘বন্ধু’ দেশ চিনকে, পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও তুরস্কের সমর্থনও রয়েছে।
এই মুহূর্তে পাকিস্তান এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় রয়েছে। এই তালিকায় থাকা মানে, এফটিএফ মনে করছে আর্থিক অপরাধ বা জঙ্গিদের অর্থসাহায্য বন্ধ করতে না পারার কারণে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। এফএটিএফ সন্ত্রাসবাদীদের অর্থসাহায্য রুখতে ২৭ টি শর্ত দিয়েছিল পাকিস্তানকে। তার মধ্যে মাত্র পাঁচটি পূরণ করতে পেরেছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি তালিবান ও ইরান তাসে আমেরিকাকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর।

অতীতে ইরান, উত্তর কোরিয়াকে কালো তালিকায় ফেলেছে এফএটিএপ। পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় ফেলা হয় ২০১৮ সালের জুন মাসের বৈঠকে। পাকিস্তান ধূসর তালিকায় থেকে গেলে, ভবিষ্যতে আইএমএফ, রাষ্ট্রপুঞ্জ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা কমবে। এফএটিএফ গত অক্টোবরের প্যারিস অধিবেশনেই স্পষ্ট জানিয়েছিল, পাকিস্তানকে চার মাসে দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থসাহায্য বন্ধ করতে হবে। সেটা না করতে পারলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাকিস্তানের নাম উঠবে কালো তালিকায়।
এফএটিএফ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নম্বর ধারায় তালিকাভুক্ত বিশেষ করে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতের মতো সংগঠন বা তাদের মাথার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান। পাকিস্তান অবশ্য দাবি করেছে তারা বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ৭০০ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। জঙ্গিদের অর্থ জোগান বা ‘মানি লন্ডারিং’-এর তেমন কোনও প্রমাণই নেই। এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় আন্তর্জাতিক সংগঠন সেটাই দেখার।