
শেষ আপডেট: 15 March 2019 18:30
সমীক্ষা বলছে, বিশ্ব জুড়ে টাস্কারদের সংখ্যা মেরে কেটে ৩০। মূলত পূর্ব, মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই প্রজাতি। সংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় খুব কম দলবদ্ধ ভাবে দেখা যায় এই হাতিদের। সাধারণত এরা একাই ঘুরে বেড়ায় জঙ্গলে।
উইল জানিয়েছেন, কেনিয়ার স্যাভো ন্যাশনাল পার্কে দীর্ঘদিন ধরেই ক্যামেরা তাক করে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। টাস্কারদের কোর এরিয়ায় যেতে তাঁকে সাহায্য করেন স্যাভো ন্যাশনাল পার্কের কর্তৃপক্ষেরা। উইলের কথায়, “সেই মুহূর্তটা ছিল অসাধারণ, যখন আমি বিগ টাস্কারদের দেখা পাই। বিশ্বের বিরল প্রজাতির এই হাতিরা দাঁড়িয়েছিল আমারই সামনে। ভাবা যায় না।”
তানজানিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা উইলের। ছোটোবেলা থেকেই ওয়াইল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফির উপর তাঁর আগ্রহ জন্মায়। ক্যামেরা নিয়ে নানা সাফারি পার্ক, জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যে ঢুঁ মেরেছেন। তবে কেনিয়ার জঙ্গলের অভিজ্ঞতাটা অনেকটাই আলাদা বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিগ টাস্কারের নানা ভঙ্গিমার ছবি তুলেছেন উইল বুরার্ড লুকাস। তবে সবই সাদা-কালো ফ্রেমে। কখনও ক্যামেরা জুম করে, আবার কখনও দূর থেকে হাতিদের লেন্সবন্দি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিগ টাস্কার আমার প্রজেক্টের অন্যতম বিষয় ছিল। ক্যামেরার নানা কারসাজিতে তাদের বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুলেছি আমি। এই হাতিদের গড়ন, তাদের আকার ও বৈশিষ্ট্য দেখানোটা দরকার ছিল।” এই ছবি দেখে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিভিন্ন সংগঠন বিগ টাস্কারদের বাঁচাতে এগিয়ে আসবে বলেই মনে করেন তিনি।
উইলের ক্যামেরায় তোলা প্রথম স্ত্রী টাস্কারের নাম F_MU1। দুঃখের বিষয়, ছবি তোলার কিছু পরেই মৃত্যু হয় এই হাতিটির। প্রাকৃতিক কারণেই এই মৃত্যু বলে জানিয়েছেন স্যাভো ট্রাস্টের কর্তৃপক্ষরা। বিগ টাস্কারদের অবলুপ্তির অন্যতম কারণ চোরাশিকার, এমনটাই জানিয়েছেন উইল। মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার নানা জায়গায় চোরাশিকারিদের নিশানায় থাকে টাস্কাররা। বিশাল দাঁতই এই আকর্ষণের মূল জায়গা। ২০০৭ সালে হাতির দাঁতের চোরাচালান মাত্রা ছাড়ায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্সে নির্বিচারে হাতি নিধন চলে। সেই সময় ব্যাপক হারে হত্যা করা হয় বিগ টাস্কারদের। ফোটোগ্রাফারের কথায়, “আমি অভিভূত এটা দেখে যে কেনিয়ার স্যাভো ন্যাশনাল পার্কে এখনও বিগ টাস্কাররা বেঁচে রয়েছে। চোরাশিকারিরা তাদের নাগাল পায়নি। এদের সকলকেই সংরক্ষণ করাটা খুব দরকার।”
বিগ টাস্কারদের নানা অ্যাঙ্গেলের ১৫০টা শট নিয়ে নতুন বই বার করছেন উইল। ‘ল্যান্ড অব জায়ান্টসস’ নামে এই বই বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই আশা রাখছেন তিনি।