
শেষ আপডেট: 18 November 2019 18:30
ভোর পাঁচটায় ছেলে কোলে পোকা কিনতে এসেছিলেন এক মা। এক বছরের ছেলের শরীর প্রায় কঙ্কালসার। ধুঁকছেন মাও। বোতল ভরে ঝিঁঝিঁ পোকা কিনে নিয়ে গেলেন। সামান্য কিছু সবজির সঙ্গে এই পোকা প্রোটিনের ঘাটতি মেটাবে। ছেলেটাকে তো বাঁচাতে হবে!
গোমা শুধু নয় গোটা কঙ্গো প্রজাতন্ত্রেই পোকা খাওয়ার অভ্যাস আছে। গোমার বাজারে মাছ, মাংসের চেয়েও পোকার কদর অনেক বেশি। আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপের নানা জায়গায় মানুষের খাদ্যাভাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে পোকা।

পোকা ধরা অনেক সহজ, জানিয়েছেন মিনোভা। তাঁর কথায়, ‘‘বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় প্রচুর ফড়িং পাওয়া যায়। সেগুলো ধরে আনি। চাষের জন্য বীজ কেনার খরচ, খামারের খরচের চেয়েও সস্তায় হয়ে যায় পোকা চাষ। আমার বাড়িতেই পচা ফল, খাবারের ঝুড়ি রেখে দিলে সেখানে পোকা উড়ে আসে। শুঁয়োপোকার জন্য কিছু গাছ লাগে। খাবার এরা নিজেরাই যোগাড় করে নেয়। আমাদের লাভ অনেক বেশি হয়।’’ তা ছাড়া, পোকাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফাইবার। কঙ্গোর একটা বড় অংশে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষরা তাই পোকা থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ পেয়ে যান।

এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকায় মৌমাছির লার্ভা, পিউপা খুবই উপাদেয় ডিশ। সেই সঙ্গে লাল পিঁপড়ে খাওয়া হয় প্রচুর। বিশেষজ্ঞরা বলছে, ১০০ গ্রাম লাল পিঁপড়েতে ১৪ গ্রাম প্রোটিন, ৪৮ গ্রাম ক্যালসিয়াম, আয়রন সমেত নানা খনিজ উপাদান থাকে।
‘ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন’ এবং ‘ম্যাডিসন নেলসন ইনস্টিটিউট ফর এনভায়োরনমেন্টাল স্টাডিজ’-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, কীট-পতঙ্গের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন-সহ নানা পুষ্টিকর উপাদান। পাশাপাশি, এরা শরীরে বাসা বাধা ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়াগুলিকে নষ্ট করে, রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে। গত বছর বিজ্ঞান পত্রিকা ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’-এ সেই গবেষণার ফলও প্রকাশিত হয়। ‘ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন’-এর গবেষক স্টাল বলেছেন, বর্তমানে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ জায়গায় ‘ইনসেক্ট ইটিং কালচার’ শুরু হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, পিঁপড়ে (Ants), ছোট কীট বা পতঙ্গ (Bugs), রেশম মথ (silkworm) এগুলির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস এবং হেলদি ফ্যাট। পেট এবং হজমের সমস্যা দূর হয় নিয়মিত পোকা খেলে। অতিরিক্ত উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং নানা শারীরিক জটিলতা থেকে রেহাই মেলে।
স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির কথা যদি বাদই দেওয়া হয়, বিশ্বজুড়ে বিপুল খাবারের চাহিদা পূরণে আগামী দিনে ইনসেক্ট মিল সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হবে বলেই মনে করছেন গবেষকদের একটা বড় অংশ। ‘ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন’-এর গবেষক স্টাল বলেছেন, জাম্বিয়াতে এখন উইপোকার চাষ করছেন মানুষজন। স্টালের কথায়, ‘এটি খেতে মুচমুচে পপকর্নের মতো। বেশ অয়েলি স্ন্যাকস।’ দেখুন আপনিও ট্রাই করবেন কি না!