ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বহু দেশ, করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর থেকে অতি ভয়ঙ্কর হবে, হুঁশিয়ারি হু কর্তার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিমহামারী ঠেকাতে সঠিক পদক্ষেপ করছে না অনেক দেশই। ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে একের পর এক। এর ফল মারাত্মক হতে পারে। আগামী দিনে ভয়ঙ্কর থেকে অতিভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বিশ্বকে। সমস্ত দেশের উদ্দেশেই এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব
শেষ আপডেট: 13 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিমহামারী ঠেকাতে সঠিক পদক্ষেপ করছে না অনেক দেশই। ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে একের পর এক। এর ফল মারাত্মক হতে পারে। আগামী দিনে ভয়ঙ্কর থেকে অতিভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বিশ্বকে। সমস্ত দেশের উদ্দেশেই এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস আধানম ঘেব্রেইসাস।
জেনেভার হেডকোয়ার্টারে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্বের সমস্ত দেশকে উদ্দেশ্য করেই হু কর্তা বলেন, করোনা অতিমহামারী এক ভয়ানক স্বাস্থ্য সঙ্কটের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। আগের পরিস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। হু কর্তার বক্তব্য, ভাইরাসের সংক্রমণ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে ‘ওল্ড নর্মাল’-এ ফিরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ। আগামী দিনে সংক্রমণ ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ না করলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বিশ্বকে।
বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ১ কোটি ৩২ লক্ষে পৌঁছেছে। সাড়ে ছ’মাসে ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের। প্রায় প্রতিদিনই লাখের বেশি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে। হু কর্তার কথায়, “অতিমহামারী ঠেকাতে যে প্রাথমিক বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত তা করছে না অনেক দেশই। কিছু দেশ ভুল পথে হাঁটছে। যে কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। মানুষের এক নম্বর শত্রু হয়ে উঠেছে এই ভাইরাস।”
টেড্রস আগেই দাবি করেছিলেন, অতিমহামারী থামেনি। ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল হবে এমন আশাও দেখা যাচ্ছে না। সংক্রামিত তো বটেই, সংক্রমণের সন্দেহে থাকা মানুষের সংখ্যাও অনেক। কাজেই এই ভাইরাস এখনও বহুদূর যেতে পারে। কোভিড পর্যায়ে বিশ্ব এক নতুন ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে এমন কথাও বলেছিলেন হু কর্তা। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংক্রমণের প্রথম ধাক্কাই এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এর মধ্যেই দ্বিতীয় ধাক্কা আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চিনে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আমেরিকা, ব্রাজিলে করোনা কার্ভ বেড়েই চলেছে।
এই মুহূর্তে বিশ্বে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। এই দুই দেশের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে হু প্রধান বলেন, আমেরিকায় সংক্রামিত ৩৪ লাক ছাড়িয়েছে। ব্রাজিলে এই সংখ্যা ১৮ লাখের বেশি। গত দশদিনে বিশ্বজুড়ে নতুন করে ১০ লক্ষ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যার অধিকাংশই এই দুই দেশে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা যে ভুল পথে হাঁটছে এমন মন্তব্য করেছিলেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের প্রধান ও হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফৌজিও। তাঁর বক্তব্য ছিল, করোনা মোকাবিলায় সঠিক পদক্ষেপ করছে না মার্কিন প্রশাসন। ফ্লোরিডা, অ্যারিজ়োনা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসের অবস্থা ভয়াবহ। এর পরেও লকডাউন শিথিল করা হয়েছে বেশ কিছু রাজ্যে। খুলেছে স্কুল-কলেজ। যে কারণে সংক্রমণের কার্ভও বেড়ে চলেছে। ফৌজি বলেছিলেন, উত্তর ও দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে করোনার প্রকোপ বেশি । সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি)তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১২টি রাজ্যে করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা গত কয়েকদিনে বেড়েছে। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। করোনার সংক্রমণ নিয়ে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীদের সংখ্যাও চিন্তা বাড়াচ্ছে। ফ্লোরিডার মায়ামি কাউন্টিতে গত দু’মাসে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাউস্টনের হাসপাতালগুলিতে ভর্তি হওয়া কোভিড রোগীদের ৯৭% আইসিইউতে ভর্তি।
আমেরিকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করায় মার্কিন প্রশাসনের রোষের মুখে পড়েছেন অ্যান্থনি ফৌজি। তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন চলছে।
জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর নিরিখে আমেরিকার পরেই রয়েছে ব্রাজিল। সংক্রামিতের সংখ্যা ১৮ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু ৭২ হাজারের বেশি। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও ইংল্যান্ডের লেইসেস্টারে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ায় সেখানে লকডাউন জারি করা হয়েছে। আমেরিকায় ফ্লোরিডার কোভিড পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রবিবারই ১৫ হাজার নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও গতকাল অর্থাৎ সোমবার নতুন করে ১২ হাজার মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।