
শেষ আপডেট: 17 July 2019 18:30
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু (WHO)-এর রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক মাসে এই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের। প্রতি দিনই অন্তত ১২ জন রোগী ইবোলা সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল টেডরস অ্যাডহানম ঘেব্রেইসাস বলেছেন, "ইবোলা ভৌগোলিক মানচিত্রের সীমানা অতিক্রম করে যাচ্ছে। রোয়ান্ডা সীমান্তবর্তী গোমা শহরের ২০ লক্ষ বাসিন্দার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভয়াবহ রোগের জীবাণু। এই মুহূর্তে ইবোলা সংক্রমণের হার বেশি আঞ্চলিক স্তরে। তবে বৃহত্তর ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িযে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। " জেনেভার সভায় এই সংক্রমণকে 'আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সঙ্কট' হিসেবে ঘোষণা করেছে হু।
১৯৭৬ সালে ইবোলা ভাইরাস প্রথম হানা দেয় আফ্রিকায়।ওই বছর মৃত্যু হয়েছিল ২৫১ জনের। আক্রান্ত প্রায় ৩১৮। ২০১৪-২০১৬ পর্যন্ত শুধু গিনিতেই ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ২৫ হাজার। কঙ্গো, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, সুদান, গ্যাবন, উগান্ডা, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও নাইজেরিয়া সহ মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে ইবোলায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক। ২০১৪ সালে গিনি, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া আর সিয়েরা লিওনেই শুধু ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন দু’হাজারের বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছিল প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি।
ভাইরাসটির মূল বাহক এক প্রজাতির ফল-খেকো বাদুড়- টেরোপডিডাই। তারা ভাইরাসটি বহন করে, তবে নিজেরা আক্রান্ত হয় না। পরে ওই বাদুড় থেকে বিভিন্ন প্রাণীর দেহে রোগ সংক্রামিত হয়। আর কোনও ভাবে আক্রান্ত প্রাণীদের মাংস খেয়ে ফেললে বা সংস্পর্শে এলেই ইবোলা ভাইরাসটি চুপিসাড়ে ঢুকে পড়ে মানবদেহে। তার পর সংক্রামিত মানুষের রক্ত বা দেহরস (যেমন হাঁচি, কাশি) থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে অন্য মানুষের দেহে।
ইবোলা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হলেও, গরিব দেশগুলিতে বেশিরভাগ সময়তেই এই টিকা মেলে না। ফলে মৃত্যু হয় বিশাল হারে। ভারতে প্রথম ইবোলা ভাইরাস হানা দেয় আমদাবাদে, ২০১১-য়। তার পর ২০১৪ সালে দিল্লিতে ইবোলায় আক্রান্ত হন আরও এক জন। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি’র পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার। তবে পেশাগত ক্ষেত্রে বা অন্যান্য নানা কারণে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে যে সমস্ত মানুষজন রয়েছেন বা ওই সব দেশ থেকে নিয়মিত যাওয়া-আসা করেন, তাঁদের নিয়ে হিসেব কষা হলে, সংখ্যাটা এক লক্ষ বা তারও অনেকটা বেশি হতে পারে।