দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার পুনঃসংক্রমণ বা রিইনফেকশন নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা। সংক্রমণ সেরে উঠতেই ফের নতুন করে ভাইরাসের কবলে পড়ছিলেন রোগীরা। এমনকিও এও দেখা গিয়েছিল করোনা সারিয়ে উঠে তিন মাসের মধ্যেই ফের সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে শরীরে। পুনঃসংক্রমণে ভাইরাসের স্ট্রেনও আলাদা। তাই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ছিল, ভাইরাস রুখতে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে সেগুলো যাচ্ছে কোথায়? এইসব প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন অক্সফোর্ডের গবেষকরা।
কোভিড রিইনফেকশন নিয়ে গবেষণা চলছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে ভর্তি করোনা রোগীদের পর্যবেক্ষণে রেখে গবেষকরা দেখছিলেন পুনঃসংক্রমণ কীভাবে হানা দিচ্ছে শরীরে। পরীক্ষানিরীক্ষার পরে গবেষকরা বলেছেন, শুরুতে যতটা উদ্বেগ ছিল, এখন তা কমেছে। দেখা গেছে, করোনা সারিয়ে ওঠার অন্তত ৬ মাস অবধি ভাইরাস শরীরে ঢুকতে পারবে না। অতএব রিইনফেকশনের সম্ভাবনাও নেই।
অক্সফোর্ডের নিউফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথের গবেষক ডেভিড আইরের মতে, পুনঃসংক্রমণের ঝুঁকি কমছে মানেই কোভিড প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি টিকে থাকার সময় বাড়ছে। এই গবেষণার সবচেয়ে ভাল দিক সেটাই। বিজ্ঞানী বলছেন, সংক্রমণ সারিয়ে ওঠার পরে যদি ৬ মাস অ্যান্টিবডি রক্তে থেকে যায় তাহলেই ভাইরাল স্ট্রেন আর নতুন করে রোগ ছড়াতে পারবে না।

১১,০৫২ জন রোগীর উপরে পরীক্য়া করেই এই সিদ্ধান্তে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার কথা ছাপাও হয়েছে। বলা হয়েছে, ১১ হাজার রোগীর মধ্যে ৮৯ জন যাদের রক্তে অ্যান্টিবডি ছিল না তারা ফের আক্রান্ত হয়েছে এবং সংক্রমণের উপসর্গও রয়েছে। অন্যদিকে, ১২৪৬ জন রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এদের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি ছিল, তার পরেও সংক্রমণ ধরেছে এবং রোগীরা উপসর্গহীন। বাদবাকি রোগীদের বেশিরভাগেরই রক্তে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং তাদের ক্ষেত্রে পুনঃসংক্রমণের সম্ভাবনা নেই।

বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, রিইনফেকশন তখনই হবে যখন পরপর ভিন্ন ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ছড়াবে। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। করোনার সংক্রমণ হলে ১৪ দিন পর থেকে রক্তরস বা প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়। সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন (S) দেহকোষের
ACE2 ও CD147 রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধে কোষে ঢোকার পরেই প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়তে থাকে। ভাইরাল প্রোটিন বা অ্যান্টিজেনের খবর পেলেই
রক্তের বি লিম্ফোসাইট কোষ (B Cell) বা বি-কোষ উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। এই কোষ তখন অ্যান্টিজেনের প্রতিরোধে বিভাজিত হয়ে নিজের অসংখ্য ক্লোন তৈরি করে। এই কোষগুলি থেকেই রক্তরস বা প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা অ্যান্টিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। শুরুতে দেখা গিয়েছিল এই অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি স্থায়ী হচ্ছিল না। কিন্তু এখন দেখা গেছে, ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে গিয়ে মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তাই অ্যান্টিবডির স্থায়িত্বও বাড়ছে। অন্তত পাঁচ থেকে সাত মাস টিকে থাকছে অ্যান্টিবডি। যদি রোগীর শরীরে কোনও ক্রনিক রোগ বা জটিল সংক্রমণজনিত রোগ না থাকে তাহলে এই অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব আরও বাড়বে বলেই দাবি গবেষকদের।