দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেন-স্ট্রেন নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। এর মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন মিউট্যান্ট স্ট্রেনও ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের দাবি, ব্রিটেন স্ট্রেন তথা বি.১.১.৭ প্রজাতিকে ভ্যাকসিনে কাবু করা সম্ভব, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার প্রজাতির ওপরে ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী হবে সে নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ব্রিটেনে টিকা দিতে শুরু করেছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা। আজ থেকে আবার কড়া লকডাউনও চালু হয়েছে। করোনার নতুন স্ট্রেনের আতঙ্কে স্কুল-কলেজেও তালা পড়েছে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসচিব ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, একেই করোনার নতুন স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েছে দেশে, তার ওপরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও মিউট্যান্ট স্ট্রেন ঢুকেছে। করোনার এই প্রজাতিকে ভ্যাকসিনে নির্মূল করা কষ্টকর হবে বলেই দাবি তাঁর।
হ্যানককের বক্তব্য, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গত কয়েক সপ্তাহে যাঁরা ব্রিটেনে ঢুকেছেন, তাঁদের থেকেই নাকি নতুন ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের নানা জায়গায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া করোনার নতুন প্রজাতির নাম ‘৫০১.ভি২’ । সার্স-কভ-২ ভাইরাসের এই নয়া ভ্যারিয়ান্ট ব্রিটেন স্ট্রেনের চেয়েও বেশি ছোঁয়াচে বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের। খুব দ্রুত বিভাজিত হওয়ার ক্ষমতা আছে এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেনের। জিনগত বদল বা জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এই নয়া স্ট্রেন আরও বেশি সংক্রামক।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার যে স্ট্রেন প্রথম মিলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় তার থেকে নতুনটি অনেকটাই আলাদা। মনে করা হচ্ছে, ভাইরাসের জিনের গঠন বিন্যাস বদলের কারণে এই নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে। করোনার রিইনফেকশন বা পুণঃসংক্রমণও ঘটাতে পারে এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেন।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ জন বেল বলেছেন, ব্রিটেন-স্ট্রেনে স্পাইক প্রোটিনের দুটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড বদলেছে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্টের স্পাইক প্রোটিনে ক্রমাগত বদল হয়ে চলেছে। বহুবার জিনের গঠন বদলেছে এই ভাইরাস। এত দ্রুত বদল হচ্ছে যে ভ্যাকসিনের প্রভাব কেমন পড়বে সে নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন প্রায় পাঁচ হাজার জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে। তাতেই দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি স্ট্রেন একে অপরের থেকে আলাদা। এত দ্রুত জিনের গঠন বিন্যাস বদলে ফেলতে পারে করোনা যে প্রতিটি ভাইরাল স্ট্রেন মানুষের শরীরে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করার উপায় খুঁজে নিতে পারে। এই ঘন ঘন বদলের জন্য তাদের রিসেপটর বাইন্ডিং ডোমেন অর্থাৎ যে অংশকে কাজে লাগিয়ে তারা মানুষের দেহকোষে ঢুকতে পারে, তারও পরিবর্তন হয়ে যায়। এই কারণেই মানুষের নানা অঙ্গের কোষে ঢোকার রাস্তা খুঁজে নিতে পারে করোনা। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্টকে কব্জা করতে না পারলে আরও বেশি মানুষের সংক্রামিত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাবে।