দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্যারিসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টার্স্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর বৈঠকের আগে পাকিস্তান দাবি করে বসেছিল, জইশ-ই-মহম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ইসলামাবাদের এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে আমেরিকা দাবি করেছে, কোথাও উধাও হয়নি মাসুদ আজহার। বরং মাসুদ এবং ২০০৮ মুম্বই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাজিদ মীর পাকিস্তানেই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছে। আইএসআইয়ের ছাতার তলায় পাকিস্তানই এখন জঙ্গি মাথাদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত আস্তানা হয়ে উঠেছে।
৩৯টি সদস্য দেশের সঙ্গে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করে এফএটিএফ। এই বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তান সন্ত্রাসদমনে কোনও কার্যকরী ভূমিকাই নেয়নি। জঙ্গিদের আর্থিক মদত দেওয়া বন্ধ তো করেইনি, উল্টে তাদের নিরাপদে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এফএটিএফ-এর দেওয়া ২৭টি শর্তের মধ্যে মাত্র পাঁচটি পূরণ করতে পেরেছে পাকিস্তান, কাজেই তাদের ধূসর তালিকাতেই থাকতে হবে। সেই সঙ্গে এফএটিএফ হুঁশিয়ারিই দেয় যে আগামী দিনে শর্ত পূরণ না হলে কালো তালিকায় ঢোকার প্রস্তুতি নিতে হবে পাকিস্তানকে।
মুম্বই হামলার চক্রী মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরেই পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছিল আমেরিকা। জঙ্গি কার্যকলাপের উপর নজরদারি সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, লস্কর-ই-তৈবা প্রধান হাফিজ সইদ ও আরও ১২টি জঙ্গি সংগঠন নিরাপদেই রয়েছে পাকিস্তানে। তাদের গ্রেফতার করা বা তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও চেষ্টাই করেনি ইমরান খানের সরকার।
এফএটিএফের হুঁশিয়ারির পরে গত বছর জুলাইতে জইশ প্রধান মাসুদকে গ্রেফতার করা হলেও সেটা সম্পূর্ণই সাজানো ছিল বলে দাবি করেছিল ভারতীয় গোয়েন্দারা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দাবি করেছিল, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ছাতার তলায় পাকিস্তানের বহাওয়ালপুরের বিলাসবহুল ‘মারকাজ-ই উসমান-ও-আলি’তে বহাল তবিয়তে আছে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ তকমা পাওয়া মাসুদ আজহার। প্রথমে জানা গিয়েছিল ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে রাওয়ালপিণ্ডির চকশাহজাদে রয়েছে মাসুদ ও তার পরিবার। পরে জানা যায়, বিলাসবহুল মারকাজ –এ-উসমান আলিতেই অন্যান্য জইশ কম্যান্ডারদের সঙ্গে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছে মাসুদ। কখনও বাহাওয়ালপুরের কৌসর কলোনি, কখনও খাইবার-পাখতুনখোয়ার বান্নু এলাকার মাদ্রাসা বিলাল হাবসাই আবার কখনও লাক্কি মারওয়াটের মাদ্রাসা মসজিদ-ই লুকমানে ডেরা পাল্টে পাল্টে থাকছে মাসুদ ও তার ঘনিষ্ঠরা।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের আশ্রয়ে থেকেই ভারতে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালায় জইশ। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামা হামলাও তাদেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। এ বছর পুলওয়ামায় দ্বিতীয়বার গাড়ি বোমার হামলার পিছনেও জইশের সক্রিয় মদত রয়েছে। গাড়িবোমা সাজানো, বিস্ফোরণের পরিকল্পনা সবটাই ছিল মাসুদের আত্মীয় ফৌজি ভাই তথা লম্বুর। জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ লম্বু গত বছরই নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢোকে। উপত্যকার জইশের কম্যান্ডার রউফ আসগরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফিদায়েঁ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু করে। সেনার গুলিতে খতম হয়েছে ফৌজি ভাই।
পাকিস্তানের উপর যে সন্ত্রাস দমন সংগঠনগুলি নজরদারি চালায়, তাদের দাবি, ভারতে হামলা চালাতে ইতিমধ্যেই ৩০ জন জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ‘মজলিস উরাসা-ই-শুহুদা জম্মু ওয়া কাশ্মীর’। জইশের নয়া সংগঠনের নাম। আন্তর্জাতিক চোখ রাঙানি এড়াতে বাড়ে বাড়েই নাম বদল করেছে জইশ-ই-মহম্মদ। গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছিল, ভারতের উপর হামলা চালাতে রউফ আসগর ও ইউসুফ আজহারের তত্ত্বাবধানে ওই শিবিরে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে।