দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিরে আসছে ১৮ বছর আগের আতঙ্ক। মৃত্যুর আর্তনাদ। ২০০২-০৩ সালে সার্স (SARS) ভাইরাস মহামারীর চেহারা নিয়েছিল চিনের মূল ভূখণ্ডে। মৃত্যু হয়েছিল ৮০০-রও বেশি মানুষের। সেই স্মৃতিই ফের উস্কে দিল নোভেল করোনাভাইরাসের (Novel Coronavirus 2019-nCoV) সংক্রমণ। মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে চিনে। আক্রান্ত শতাধিক মানুষ। চিন এই ভাইরাসের ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এশিয়ার অন্যান্য দেশেও। ভাইরাস আক্রান্তের হদিশ মিলেছে আমেরিকাতেও। চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ।
মঙ্গলবার অবধি এই ভাইরাস-জনিত রোগে চিনে মৃত্যু হয়েছিল ছ’জনের। আজ বুধবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়। আক্রান্ত চারশোরও বেশি মানুষ। চিনের শেনঝেন ও সাংহাই শহরে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে হুহু করে। তাইল্যান্ড ও জাপান থেকেও এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে। কিন্তু দু’দেশের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, আক্রান্তেরা সম্প্রতি চিনের উহান প্রদেশে গিয়েছিলেন।

সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সূত্রে খবর, আমেরিকায় বছর ত্রিশের এক ব্যক্তি চিন থেকে ফেরার পরেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। রক্তপরীক্ষায় নোভেল করোনাভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। ওয়াশিংটন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক ক্রিস স্পিটার্স জানিয়েছেন, অজানা কোনও সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন এখানকার মানুষজন। অনেকেই ভর্তি হাসপাতালে। মনে করা হচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাঁদের মধ্যে। কারণ রোগীদের উপসর্গ একই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করেছিল 2019-nCoV নামে। গবেষকরা এখন এই ভাইরাসকে ডাকছেন উহান করোনাভাইরাস (Wuhan coronavirus) নামে। সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ড আরএনএ ভাইরাসের দেখা প্রথম মিলেছিল ২০১৯ সালে। ২০২০-র জানুয়ারির মধ্যেই এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চিনের মূল ভূখণ্ডে। এমনকি উহান থেকে যাঁরা বাইরে গেছেন তাঁদের অনেকেই ভাইরাসের সংক্রমণ নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে গেছেন। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পশু-পাখির থেকেই এই ভাইরাস বাসা বেঁধেছে মানুষের শরীরে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, মানুষের থেকে মানুষেও ক্রমশই ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, যার প্রমাণ মিলেছে চিনের গুয়ানডঙ প্রদেশে। ব্যাংকক, টোকিও, দক্ষিণ কোরিয়া, বেজিং, সাংঘাই, হংকং, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম’ সৃষ্টিকারী সার্স ভাইরাসের সঙ্গে এই ‘উহান ভাইরাস’-এর অনেক মিল। ফলে কখন তা মারণ রোগের চেহারা নেবে, সেই আতঙ্কে ভুগছেন চিকিৎসকেরা। নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ‘গ্লোবাল হেলথ ক্রাইসিস’ বলে অবিহিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আক্রান্ত মানুষদের উপসর্গের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, এই ভাইরাসরা হানা দেয় চুপিসাড়ে। শরীরের ভেতর সংখ্যায় বাড়তে থাকে। শুরুটা হয় সর্দি-কাশি. জ্বর দিয়ে। শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। কাবু করে নিউমোনিয়া। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা দেয় সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম। সর্বশেষ পরিণতি মৃত্যু।
চিনা নববর্ষে অনেক দেশ-বিদেশের পর্যটকই ভিড় জমান চিনে। ফলে আগামী কয়েক দিনে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই বিমানবন্দরে বিশেষ ‘থার্মাল স্ক্রিনিং’ যন্ত্র বসানো হয়েছে। চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, কোচিতেও তার প্রস্তুতি চলছে। আমেরিকার বিমানবন্দরেও জারি হয়েছে সতর্কতা।