
শেষ আপডেট: 6 January 2021 18:30
ইলেকটোরাল ভোটে বিপুল জয়ের পরে ধাপে ধাপে প্রেসিডেন্টের গদির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন জো বাইডেন। আমেরিকার সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর ডেমোক্র্যাট শিবির। জর্জিয়া প্রদেশের একটিতে ইতিমধ্যেই জিতে গিয়েছেন বাইডেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যটি জিতলেই সেনেটের দখল চলে আসবে তাঁদের হাতেই। এদিকে আজই ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে বাইডেনকে জয়ের শংসাপত্র দেওয়ার কথাবার্তা চলছিল হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ ও সেনেটের সদস্যদের মধ্যে। বাইডেনই যে প্রেসিডেন্টের গদিদে বসছেন সে নিয়ে এখন আর কোনও সংশয়ই নেই। এই শংসাপত্র এখন শুধু নিয়মরক্ষার অংশ মাত্র। ক্ষমতার হস্তান্তর নিয়ে এদিনের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল। কিন্তু তার মাঝে আচমকাই বিক্ষোভকারীরা হামলা চালায় বিল্ডিংয়ে। পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার শুরু হয় বিল্ডিং চত্বরে। ব্যারিকেড ভেঙে বন্যার জলের মতো ভেতরে ঢুকে পড়তে শুরু করে হামলাকারীরা।
এদিন ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে মার্কিন কংগ্রেসের বৈঠকে ছিলেন বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও। হামলা হওয়ার পরেই পেন্স বিল্ডিং ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। এদিকে ট্রাম্প সমর্থকদের বিক্ষোভের ঘটনায় তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায় সেনেটের সদস্যদের মধ্যে। রিপাবলিকানদের উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে টেনেসির ডেমোক্র্যাট স্টিভ কোহেন বলেন, “তোমাদের বন্ধুকে ডাকো, ট্রাম্পকে ডেকে আনো!” এই বচসার মাঝেই হাউসের চেম্বারে ঢুকে পড়তে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তার জন্য মূল প্রবেশবন্ধ করার চেষ্টা করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে থাকেন হামলাকারীরা। সুরক্ষার জন্য তড়িঘড়ি মাটির নিচের সুড়ঙ্গে গা ঢাকা দেন সেনেটের সদস্যরা।
সেনেট মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাককনেল জানিয়েছেন, শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ঝামেলা চলছে। তবে এখন যা হচ্ছে তাকে গণতন্ত্রের অবমাননাই বলা যায়। ম্যাককনেল ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্পকে অনেক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। তবে এই ঘটনায় তাঁর সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে বলেই দাবি ম্যাককনেলের। বলেছেন, এদের থামানো না গেলে আমেরিকান রিপাবলিককেই বদনাম করে ছাড়বে।
গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সেনেট ডেমোক্রেটিক লিডার চাক স্কুমার। তিনি বলেছেন, সবটাই ট্রাম্পের প্ররোচনায় হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার পথে নেমেছে উগ্র মনোভাবাপন্ন একদল বিক্ষোভকারী।