
শেষ আপডেট: 9 July 2020 18:30
নিউমোনিয়া সাধারণত অনেক রকমের হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকঘটিত কারণে ফুসফুসে সংক্রমণ বাসা বাঁধে। জ্বর, সর্দি-কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এমনকি সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হতেও দেখা যায়। ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ও ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি ভাইরাস। তাছাড়াও আরএসভি ভাইরাস, করোনাভাইরাস, রাইনোভাইরাস, প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা ও অ্যাডেনোভাইরাস। কাজাখস্তানের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, ভাইরাল নিউমোনিয়াই ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে ঠিক কোন ভাইরাসের সংক্রমণ এত মারাত্মক আকার নিয়েছে সেটা এখনও স্পষ্ট হয়। তাই এই সংক্রমণকে অজানা নিউমোনিয়া বলা হচ্ছে।
কাজাখস্তানের চিনা দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আটিরাউ ও আকটোবে প্রদেশে এই নিউমোনিয়ার সংক্রমণ মারাত্মক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিদিনের হিসেবে এই নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কোভিড আক্রান্তের থেকে দ্বিগুণেরও বেশি। হেলথ কেয়ার চিফ সউলে কিসিকোভার কথায়, ভাইরাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনি তিনশোর বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
চিন থেকে কোনওভাবে কাজাখস্তানে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা সেটাও স্পষ্ট নয়। কাজাখস্তানের উত্তরে রয়েছে রাশিয়া, পূর্বে চিন সীমান্ত, পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া। এই দেশের কিচু অংশ উরাল নদীর পশ্চিমে ইউরোপে পড়েছে। কাজখস্তান থেকে ব্যবসায়িক পণ্য ইউরোপে আদানপ্রদান হয়। এই সংক্রামক নিউমোনিয়া ছড়িয়ে পড়ার ভয় পাচ্ছে ইউরোপ ও রাশিয়াও।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের রিপোর্ট অনুসারে, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ বলেছেন, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা এসেছে দেশে। যার কারণেই বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফের লকডাউন কড়াকড়ি করার কথা ভাবা হচ্ছে।
যদিও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ নিয়ে মুখ খোলেনি কাজাখস্তানের বিদেশমন্ত্রক। শুধুমাত্র কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সে দেশের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, কোভিড মোকাবিলায় প্রতিদিনে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি টেস্ট হচ্ছে। এখনও অবধি ৯০ হাজার টেস্টিং হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি।