হাফিজ সইদকে সংসার চালানোর টাকা তুলতে অনুমতি দিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে বন্দী লস্কর মাথা হাফিজ সইদ। তার পরিবার ভেসে যেতে বসেছে। অন্তত সংসার খরচটুকু তাকে দেওয়া হোক, রাষ্ট্রসঙ্ঘে এই বিষয়ে খোলাখুলি আর্জি জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। সেই আবেদনে সায় দিয়ে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়
শেষ আপডেট: 25 September 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে বন্দী লস্কর মাথা হাফিজ সইদ। তার পরিবার ভেসে যেতে বসেছে। অন্তত সংসার খরচটুকু তাকে দেওয়া হোক, রাষ্ট্রসঙ্ঘে এই বিষয়ে খোলাখুলি আর্জি জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। সেই আবেদনে সায় দিয়ে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়া হবে হাফিজ সইদকে। সংসার খরচ তুলতে যতটুটু দরকার, সেই টাকাও তুলতে পারবেন লস্কর প্রধান।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি পাকিস্তানে গ্রেফতার হয়েছে লস্কর-ই-তইবা প্রধান হাফিজ সইদ। সন্ত্রাসবাদের প্রচার, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ সাহায্য ইত্যাদি নানা অভিযোগে হাফিজের বিরুদ্ধে চার্জশিটও পেশ করেছে গুজরানওয়ালা আদালত। পাকিস্তানের অ্যান্টি টেররিজম অ্যাক্টের (এটএ ১৯৯৭) ১১ ধারায় হাফিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গুজরানওয়ালা, মুলতান, লাহোরে হাফিজ পরিচালিত একাধিক বেনামী সংগঠন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের আবেদন ছিল, হাফিজ সইদ লাহোরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন হাফিজ। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেছেন তিনি। অবসরের পর নেসশন বাবদ যত টাকা ব্যাঙ্কে জমা হয়েছে, সেই টাকা তাঁকে সংসার খরচের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। কারণ হাফিজের অ্যান্য সম্পত্তি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হাফিজ জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে তাঁর মোট খরচ দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি (পাকিস্তানের টাকায়)। সেই টাকা তোলার অনুমতি দিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।
২০০১ সালে সংসদ ভবনে হামলা। ২০০৬ সালে মুম্বইয়ে ট্রেনে বিস্ফোরণ। ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে একইসঙ্গে অনেকগুলি জায়গায় জঙ্গি হানা। এই তিনটি ঘটনার মূল চক্রান্তকারী একজনই। হাফিজ মহম্মদ সইদ। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে আর্থিক সাহায্য প্রদানের অভিযোগও রয়েছে হাফিজের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত ভারতের ‘ডসিয়ের’-এও নাম ছিল হাফিজ সইদের। তার বিরুদ্ধে ছিল যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণও। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাক ভূখণ্ডে নির্দ্বিধায় ঘুরে বেড়িয়েছে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি।
চলতি বছর জুন মাসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সন্ত্রাসবাদীদের অর্থের যোগান বন্ধ করার জন্য তারা যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। তার পরেই গ্রেফতার হয় হাফিজ সইদকে। পাকিস্তানের সন্ত্রাস মোকাবিলা বিভাগ (CTD) জানায়, জামাত-উদ-দাওয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ২৩টি এবং তার ১২ জন ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে পাঁচটি ট্রাস্টকে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই হাফিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আল-আনফাল, দাওয়াত উল ইরশাদ এবং মুয়াজ বিল জবল, এইসব ট্রাস্টের নামে এতদিন ধরে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তৈরি করেছিল হাফিজ সইদ এবং তার সঙ্গীরা।সেটাই লাগানো হতো সন্ত্রাসের কাজে।
