দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। তারপরেই টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে ব্রিটেনে।
অক্সফোর্ডের টিকা নয় কিন্তু। বরং আমেরিকার ফাইজার ও মোডার্নার টিকাই প্রথম দেওয়া হবে ব্রিটেনের নাগরিকদের। ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ নিয়ে ব্যবস্থা চলছে আমেরিকায়। পাইলট ডেলিভারি শুরু হয়েছে কয়েকটি রাজ্যে। তবে ব্রিটেন ব্যবস্থা আগেই সেরে রেখেছে। দেশের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, আমেরিকার ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভ্যাকসিনে আগে থেকেই নজর ছিল সরকারের। আমেরিকা ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের অনুমতি দেওয়ার পরেই পর্যাপ্ত ডোজ কিনে নেয় ব্রিটেন সরকার। আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে ফাইজারের টিকাই দেওয়া শুরু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
ফাইজারের টিকা কেনার উদ্যোগ-আয়োজন শুরু হয়েছিল সেই ২০ নভেম্বর থেকে। ব্রিটেনের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রডোক্টস রেগুলেটরি কমিটি (এমএইচআরএ)-র সঙ্গে চুক্তি হয় ফাইজার-বায়োএনটেকের। সূত্রের খবর, ফাইজারের টিকার ৪ কোটি ডোজ কিনেছে ব্রিটেন সরকার। ফাইজারের টিকা যেহেতু খুব ঠান্ডায় সংরক্ষণ করতে হয় তাই সেই মতো কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় টিকা তাজা রাখার প্রস্তুতি করে ফেলেছে ব্রিটেন।
অন্যদিকে, আমেরিকার আরও এক ফার্মা জায়ান্ট মোডার্নার টিকাও কিনেছে ব্রিটেন। মোডার্না ইতিমধ্যেই দাবি করেছে তাদের ভ্যাকসিন ৯৪ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। কমবয়সী শুধু নয়, বয়স্কদের শরীরেও টিকার ডোজের প্রভাব ভাল। এরপরেই মোডার্নার টিকা আগেভাগে বুক করার রাখার ধুম পড়ে গেছে বিশ্বজুড়েই। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ লাখ ডোজের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। আরও দু’লাখ ডোজ কেনা হবে। সাতটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি থেকে ৩৫ কোটি ডোজের অর্ডার দিয়ে রেখেছে ব্রিটেন সরকার।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা নিয়ে টানাপড়েন চলছে। অক্সফোর্ডের টিকার ডোজে ভিন্ন ফল দেখা যাচ্ছে বলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শোনা যাচ্ছে, শোনা যায়, অক্সফোর্ড টিকার একটি ডোজ দিলে নাকি তা ৯০ শতাংশ কার্যকরী হচ্ছে। অথচ যদি টিকার সম্পূর্ণ ডোজ অর্থাৎ ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ দেওয়া হয় স্বেচ্ছাসেবকদের তাহলে নাকি টিকার কার্যকারিতা ফের ৬০-৭০ শতাংশে নেমে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে বা কীভাবেই হচ্ছে, সে নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে ব্রিটেনের ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি। অক্সফোর্ড আগেই জানিয়েছিল, সব ঠিক থাকলে নভেম্বর থেকেই টিটাকরণ শুরু হবে ব্রিটেনে। সে জন্য লন্ডনের একাধিক হাসপাতালকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায়, সে সময় আরও পিছিয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।