দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনা অ্যাপ টিকটক আগেই নিষিদ্ধ হয়েছিল ভারতে। সেই পথে হেঁটে টিকটক সহ আরও কয়েকটি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার কথা ভেবেছিল আমেরিকাও। তবে সম্প্রতি টিকটক নির্মাতা সংস্থা বাইটড্যান্সের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মার্কিন টেক জায়ান্ট ওরাকলের কাছে এই অ্যাপের মালিকানা চলে যাবে কিনা সে নিয়ে বিস্তর টানাপড়েন চলছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বলেছিলেন, আমেরিকায় টিকটক থাকুক এটা তিনি পছন্দ করছেন না। দরকার হলে বিশেষ ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবেন না। এবার সেই সম্ভাবনাই সত্যি হতে চলেছে।
আগামীকাল অর্থাৎ রবিবার থেকে চিনা ভিডিও অ্যাপ টিকটক আর ডাউনলোড করতে পারবেন না মার্কিন বাসিন্দারা। অন্যদিকে মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাট পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপ করছে টিকটক ও উইচ্যাট। তথ্য চুরির চেষ্টাও করেছে এই দুই চিনা অ্যাপ। তাই দেশের জনগনের নিরাপত্তার স্বার্থে এই দুই অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।
আমেরিকার সঙ্গে চিনের বাণিজ্য যুদ্ধ, করোনা পরিস্থিতি ও হংকং নিয়ে বেজিংয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দু’দেশের সম্পর্ক ফের তিক্ত হয়ে উঠেছে। এই আবহেই বেশ কয়েকটি চিনা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ আমেরিকায় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের মতো আমেরিকাতেও সমান জনপ্রিয় চিনা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক। কিন্তু তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আপত্তি তুলছে মার্কিন প্রশাসন এবং রাজনীতিবিদদের একাংশ। অভিযোগ, টিকটকের মতো ভিডিও অ্যাপের সাহায্য নিয়ে আমেরিকার উপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বেজিং। মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থনীতির উপরেও নজর রাখছে টিকটক। ব্যবহারকারীদের লোকেশন ডেটা, ব্রাউজিং ও সার্চ হিস্ট্রি সহ যা যা জেনে ফেলা সম্ভব, টিকটক ইতিমধ্যেই আমেরিকায় থাকা ব্যবহারকারীদের সেই সব তথ্য জেনে নিয়েছে। ব্যক্তিগত ও গোপন নথি তারা চিনের কমিউনিস্ট পার্টির হাতেও তুলে দিয়েছে। এমনকি আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে বলেও দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জানা গিয়েছে, আগামীকাল থেকে টিকটক আর ডাউনলোড করা যাবে না আমেরিকায়। তবে ব্যবহারকারীরা ১২ নভেম্বর অবধি এই অ্যাপ চালাতে পারবেন। তবে উইচ্যাট পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে আমেরিকায়।
নজরদারির অভিযোগ এবং আমেরিকায় টিকটক নিষিদ্ধ করা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন বাইটড্যান্সের সিইও কেভিন মায়ের। তাঁর বক্তব্য, এমন হঠকারি সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করা হচ্ছে। টিকটক চ্যালেঞ্জ করতে পারে যে এই অ্যাপ কখনওই ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করেনি। কেভিনের দাবি, টিকটক কোনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নেয় না বা রাজনৈতিক অ্যাডেন্ডাও নেই এই অ্যাপের। সকলকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই এই অ্যাপ। টিকটক যে সমাজের শত্রু নয় সেটা বুঝতে হবে আমেরিকাকে।