দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে নোভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই সাড়া ফেলে দিল থাই চিকিৎসা। অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগের সংমিশ্রণে এমন ককটেল তৈরি করেছেন থাইল্যান্ডের ডাক্তাররা যা ভাইরাসের প্রভাবকে নির্মূল করেছে শিকড় থেকে। চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন সংক্রামিত এক চিনা মহিলা।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে রুখতে পারবে এই ড্রাগ, এমনটাই দাবি করেছে থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ডাক্তার ক্রিয়েঙ্গসাক আত্তিপোর্নানিক জানিয়েছেন, বিভিন্ন অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগের ককটেলে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ ওষুধ। এই ককটেলের মধ্যে এমন ড্রাগ রয়েছে যা ফ্লু এবং এইচআইভির চিকিৎসায় লাগে। এমন ককটেল ড্রাগ প্রয়োগ করার পরেই দেখা গেছে তার কাজ দুরন্ত। নির্দিষ্ট ডোজে প্রয়োগ করলে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সক্ষম এই ড্রাগ। এবং ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের ডাক্তাররা।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, ৭১ বছরের এক চিনা মহিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। পরে দেখা যায় তিনি সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে মহিলার চিকিৎসা শুরু হয়। ডাক্তার ক্রিয়েঙ্গসাক জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহিলার অবস্থা দাঁড়ায় শঙ্কাজনক। উঠে বসার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। মরণাপন্ন ওই মহিলার উপর এই ককটেল ড্রাগ প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। তার ফলও নাকি হয় অবিশ্বাস্য। দেখা যায় মহিলার সর্জি-জ্বরের মতো সংক্রমণ নিমেষে উধাও হয়েছে। ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পরে দেখা গেছে ওই মহিলা উঠে বসতে পারছেন। ভাইরাসের প্রভাবও অনেকটাই কম।
চিনের উহান শহরে প্রথম যে ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল সেটা এখন গোটা বিশ্বের কাছেই অ্যালার্মিং। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে ‘গ্লোবাল হেলথ এমার্জেন্সি’ বলে ঘোষণা করেছে। চিনের বাইরে ফিলিপিন্সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৪ বছরের এক মহিলার মৃত্যুর খবরম মিলেছে। থাইল্যান্ডে এখনও অবধি এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯।

থাই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে ল্যাবোরেটরিতে জোরদার গবেষণা চলছে। বিভিন্ন ওষুধের সংমিশ্রণ পরীক্ষানিরীক্ষা করা চলছে। ওসেলটামিভির, লোপিনাভির এবং রিটোনাভির— এই তিন ড্রাগের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ ওষুধ। ভাইরাল জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় ওসেলটামিভির। এইচআইভির চিকিৎসায় লাগে লোপিনাভির এবং রিটোনাভির লোপিনাভির এবং রিটোনাভির। এই তিন অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগের মিশ্রণই কার্যকরী হয়েছে রোগীর উপর।
মারণ ভাইরাসকে আটকাতে তোলপাড় করে গবেষণা চলছে সারা বিশ্বেই। ইতিমধ্যেই হংকং ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজিস্ট ইউয়েন কোক-ইয়াং বলেছেন, নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোখার টিকা নাকি তাঁরা বার করে ফেলেছেন। তবে মানুষের উপর সেই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ এখনও হয়নি। তার জন্য আরও কিছু সময় লাগবে। অস্ট্রেলিয়ার
রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতালের ডাক্তার, পিটার ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ভাইরাস আইডেন্টিফিকেশন ল্যাবোরেটরির প্রধান ড. জুলিয়ান ড্রুস এবং
ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মাইক ক্যাটন ল্যাবোরেটরিতে করোনাভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে, তার প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই গবেষণাও নাকি অনেকটাই সাফল্যের দিকে।