দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের ব্যবহৃত জঞ্জাল পৌঁছে গেছে পৃথিবীর গভীরতম প্রদেশে। আর সেই জঞ্জাল হল দুনিয়ার ভয়ঙ্করতম বর্জ্য, প্ল্যাস্টিক। সবথেকে বিস্ময়কর ব্যাপার হল এতদিন পর্যন্ত অগম্য স্থানে মানুষের আগে প্ল্যাস্টিকের পৌঁছে যাওয়া।
প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ–কে বলা হয় পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চল। সমুদ্রের উপরিতল থেকে যার আনুমানিক গভীরতা ৩৬,০৭০ ফিট। অর্থাৎ যার মধ্যে এভারেস্ট পর্বতটি অনায়াসে সম্পূর্ণ ডুবে যেতে পারে। এখনও পর্যন্ত মানুষ সেই ট্রেঞ্চের ভূমি স্পর্শ করতে পারেনি। সম্প্রতি টেক্সাসের এক অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো তাঁর সাবমেরিন নিয়ে ৩৫,৮৫৩ ফিট পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। এযাবৎকাল এই গভীরতাই মানবগম্যতার ক্ষেত্রে রেকর্ড। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি কী দেখলেন! সম্পূর্ণ অজানা জীব বৈচিত্রের মধ্যে দেখলেন সেই বস্তু যা শহরের রাস্তাঘাটে জঞ্জালের ভ্যাটে পড়ে থাকে স্তূপ হয়ে, যাকে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন মানব সভ্যতার অন্যতম বিপজ্জনক বর্জ্য হিসেবে, সেই প্ল্যাস্টিক।
ওই গভীর প্রদেশে কী ভাবে পৌঁছল এমন বস্তু যেখানে ভিক্টর ভেসকোভো প্রথম মানুষ যিনি ট্রেঞ্চের অত গভীরতায় যেতে সক্ষম হলেন? উত্তরটি অজানা হলেও মানুষের তৈরি করা দূষণের মাত্রা এতটা গভীরে পৌঁছে গেছে জেনে বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত হয়েছেন। এমন বিচিত্র অভিজ্ঞতার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভিক্টর ভেসকভো বলেছেন, ''মানুষের দূষণ সমুদ্রের গভীরতম বিন্দু স্পর্শ করেছে দেখাটা খুবই হতাশার।''
রাষ্ট্রসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সমুদ্রের জলে এখনও পর্যন্ত ১০ কোটি টন প্ল্যাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই বর্জ্যের একটি বড় অংশ মাইক্রো প্ল্যাস্টিক যা সমুদ্রের গভীরে বসবাসরত প্রাণী যেমন তিমি ইত্যাদি গিলে ফেলেছে। বহু মৃত তিমির পাকস্থলীতে পাওয়া গেছে মাইক্রো প্ল্যাস্টিক। তাঁর এই পর্যবেক্ষণে সরকার সমুদ্র দূষণ আইনকে আরও কঠোর করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভেসকোভো। সমুদ্র যে একটি বৃহৎ জঞ্জাল ফেলার জায়গা নয় সেটা মানুষের বোঝার সময় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিন সপ্তাহ ধরে চলা তাঁর এই অভিযানে তিনি জৈব ও অজৈব বস্তুর নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
১৯৬০ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অভিযানে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ৩৫,৮০০ ফিট পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়। ২০০১২ সালে কানাডার চলচ্চিত্র নির্মাতা তাঁর নিজস্ব সাবমেরিন নিয়ে পৌঁছন ৩৫,৭৮৭ ফিট। ভিক্টর ভেসকোভো প্রথম ব্যক্তি যিনি মারিয়ানা ট্রেঞ্চের এতটা গভীরে যেতে পারলেন।